ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার ভূমিকায়, শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

নাভি পিল্লাই ছবিঃ সংগৃহীত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এসকেনিউজ২৪

আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোর এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও নানা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আইন, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার জায়গায় ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসিকতা এ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বর্ণবৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী, যিনি নিজস্ব আইনজীবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান পিল্লাই। এ পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারীও ছিলেন তিনি।

১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিল্লাই। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় অবদান

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।

এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে আলোচিত।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার কামরুল হাসান

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার ভূমিকায়, শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই

প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এসকেনিউজ২৪

আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোর এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও নানা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আইন, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার জায়গায় ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসিকতা এ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বর্ণবৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী, যিনি নিজস্ব আইনজীবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান পিল্লাই। এ পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারীও ছিলেন তিনি।

১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিল্লাই। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় অবদান

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।

এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে আলোচিত।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার কামরুল হাসান