ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের ব্যাখ্যা, ‘নিয়মের বাইরে কাউকে সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই’




 

মোঃ শিহাব উদ্দিন,  জেলা প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। অফিসটির সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ বলেছেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো সেবা গ্রহীতার কাগজপত্রে ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন না করে পাসপোর্ট দেওয়ার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হলে এ তথ্য জানা যায়।

সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, একজন সেবা গ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্ট আবেদনের তথ্যের মিল না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হয়।

করুণা রানী বিশ্বাসের মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, এনআইডি ডাটাবেজে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘গৃহিণী’ হিসেবে রয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনে তাঁকে ‘সিঙ্গেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আবেদনে তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

নাহিদ নেওয়াজ বলেন, “ওনার এনআইডি ডাটাবেজে গৃহিণী রয়েছে। কিন্তু উনি সিঙ্গেল দিয়ে আবেদন করেন। তারপরও ওনাকে শুধুমাত্র এনআইডি কারেকশনের আবেদন জমা দিয়ে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা বলেছি। আপনারা যদি ওনাকে সত্যিই উপকার করতে মন চায়, তাহলে একটি অনলাইন এনআইডি সংশোধনের আবেদন করে আগামীকাল আমার অফিসে ওনাকে পাঠান। পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট আবেদনে কোনো ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এতে কোনো আবেদন ফেরত গেলে সেটিকে হয়রানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ আদায়ের যে দাবি করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেন সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, তাঁর অজান্তে কেউ কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনে জড়িত হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে তাঁর কার্যালয়ে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

ফলে অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—দুই পক্ষের বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য ও নিয়ম মেনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসকে/জিএস

আরও পড়ুন : ভাঙ্গায় কৃষক দলের ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের ব্যাখ্যা, ‘নিয়মের বাইরে কাউকে সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই’

প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

মোঃ শিহাব উদ্দিন,  জেলা প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। অফিসটির সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ বলেছেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো সেবা গ্রহীতার কাগজপত্রে ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন না করে পাসপোর্ট দেওয়ার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হলে এ তথ্য জানা যায়।

সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, একজন সেবা গ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্ট আবেদনের তথ্যের মিল না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হয়।

করুণা রানী বিশ্বাসের মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, এনআইডি ডাটাবেজে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘গৃহিণী’ হিসেবে রয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনে তাঁকে ‘সিঙ্গেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আবেদনে তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

নাহিদ নেওয়াজ বলেন, “ওনার এনআইডি ডাটাবেজে গৃহিণী রয়েছে। কিন্তু উনি সিঙ্গেল দিয়ে আবেদন করেন। তারপরও ওনাকে শুধুমাত্র এনআইডি কারেকশনের আবেদন জমা দিয়ে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা বলেছি। আপনারা যদি ওনাকে সত্যিই উপকার করতে মন চায়, তাহলে একটি অনলাইন এনআইডি সংশোধনের আবেদন করে আগামীকাল আমার অফিসে ওনাকে পাঠান। পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট আবেদনে কোনো ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এতে কোনো আবেদন ফেরত গেলে সেটিকে হয়রানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ আদায়ের যে দাবি করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেন সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, তাঁর অজান্তে কেউ কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনে জড়িত হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে তাঁর কার্যালয়ে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

ফলে অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—দুই পক্ষের বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য ও নিয়ম মেনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসকে/জিএস

আরও পড়ুন : ভাঙ্গায় কৃষক দলের ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা