
নিজস্ব প্রতিনিধি | নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমির দলিল, বিআরএস, নামজারি, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র জাল করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন কম্পিউটার দোকানি ও একজনকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার দিনভর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দুটি কম্পিউটার ও তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোহনগঞ্জ পৌরশহরের স্টেশন রোডের কম্পিউটার দোকানি শাকিল মিয়া (৩২), উপজেলা পরিষদের পাশের কম্পিউটার দোকানি এস এম রাকিবুল হক রাব্বি (২৮) এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল ঝুটন দত্ত (৪৩)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, একটি জাল কাগজের সূত্র ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের নেতৃত্বে শহরে অভিযান শুরু হয়। প্রথমে শাকিল মিয়ার দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন সরকারি নথির জাল কপি তৈরির তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝুটন দত্ত এবং এরপর রাকিবুল হক রাব্বির দোকানে অভিযান চালানো হয়।
প্রশাসনের দাবি, দুই কম্পিউটার দোকানির কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে বিপুল পরিমাণ জাল নথিপত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। ঝুটন দত্তের ব্যক্তিগত চেম্বার থেকেও পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুটন দত্ত দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালি করে আসছিলেন। গ্রাহকদের মিটার ও ট্রান্সফরমার পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে কম্পিউটার দোকানগুলো থেকে নকল দলিল ও নামজারিসহ বিভিন্ন নথি তৈরি করিয়ে নেওয়া হতো।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, আটক তিনজনের মধ্যে দুজন কম্পিউটার দোকানি এবং একজন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কথিত দালাল। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সায়রাত সহকারী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছেন। বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুটন দত্ত আমাদের অফিসের কেউ নন।’ তিনি জানান, দালালদের বিষয়ে অফিস সতর্ক থাকবে।
এসকে/এনএম
আরও পড়ুন : কেন্দুয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, নারীসহ আহত ৩০
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















