ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে ২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অভিযোগকারীকে হুমকি।




 

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনুমোদিত কারিগরি নির্দেশনা ও মিশ্রণ নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং প্রকৌশলীদের তদারকির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শেখ হাবিবুর রহমান ৪ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফ্রেঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ‘আর-০৯’ পরিকল্পনার আওতায় গাইবান্ধা রোড থেকে হিলো-আজিজ মুন্সি হয়ে নওশা হাউস/হিও-আতাউর হাজীর সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫১ টাকা ৬০ পয়সা।

লিখিত অভিযোগে সড়কের পূর্ববর্তী পাথরখোয়া স্তরে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ এবং চলমান ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে অনুমোদিত মিশ্রণ নকশা অনুযায়ী বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ, তাপমাত্রা, পুরুত্ব ও চাপ প্রয়োগ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা এবং প্রকল্পের পরিমাপ বই, মিশ্রণ নকশা, পরীক্ষাগার পরীক্ষার প্রতিবেদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিবেদন ও বিল-ভাউচার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও জানান, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ০১৭১২৩৩৯৩৫৩ ও ০১৭৮১৪৪৭২২৮ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলা হয়। এসব ফোনালাপের কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। ফোনদাতাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারী বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এসকে/জিএফ

আরও পড়ুন : যশোরের শার্শা-বেনাপোলে পাটখড়ির দামে লাভবান কৃষক

One thought on “সুন্দরগঞ্জে ২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অভিযোগকারীকে হুমকি।”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

সুন্দরগঞ্জে ২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অভিযোগকারীকে হুমকি।

প্রকাশের সময় : ০৮:০৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

 

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনুমোদিত কারিগরি নির্দেশনা ও মিশ্রণ নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং প্রকৌশলীদের তদারকির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শেখ হাবিবুর রহমান ৪ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফ্রেঞ্চ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ‘আর-০৯’ পরিকল্পনার আওতায় গাইবান্ধা রোড থেকে হিলো-আজিজ মুন্সি হয়ে নওশা হাউস/হিও-আতাউর হাজীর সড়ক পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৫১ টাকা ৬০ পয়সা।

লিখিত অভিযোগে সড়কের পূর্ববর্তী পাথরখোয়া স্তরে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ এবং চলমান ডেন্স বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে অনুমোদিত মিশ্রণ নকশা অনুযায়ী বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ, তাপমাত্রা, পুরুত্ব ও চাপ প্রয়োগ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা এবং প্রকল্পের পরিমাপ বই, মিশ্রণ নকশা, পরীক্ষাগার পরীক্ষার প্রতিবেদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিবেদন ও বিল-ভাউচার যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও জানান, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ০১৭১২৩৩৯৩৫৩ ও ০১৭৮১৪৪৭২২৮ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলা হয়। এসব ফোনালাপের কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। ফোনদাতাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারী বলেন, নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এসকে/জিএফ

আরও পড়ুন : যশোরের শার্শা-বেনাপোলে পাটখড়ির দামে লাভবান কৃষক