ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান




 

মোঃ নজরুল ইসলাম,  পূর্বধলা | এসকেনিউজ২৪ 

এক দিনের ব্যবধানে অধ্যক্ষের পদায়ন, দায়িত্ব গ্রহণ এবং সেই আদেশ বাতিল একের পর এক ঘটনায় নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

এর মধ্যেই রোববার গভীর রাতে কলেজের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরদিন সকালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের দুই পক্ষ।

এক পক্ষ তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে, অন্য পক্ষ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে প্রবেশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থী, কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। পরে তাঁরা কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দ মিছিল করেন।

এর আগে কলেজ ছাত্রদলের একাংশ ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে ছাত্রদলের অপর অংশ এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করলে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগের রাত, অর্থাৎ রোববার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের পাশের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নৈশপ্রহরীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে নৈশপ্রহরীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

কলেজে চলমান বিরোধের পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সেই নিয়োগ বাতিলের ঘটনা। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

কিন্তু পরদিন ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কারণে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে তাঁর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন স্থায়ী হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকেন আনোয়ারুল হক রতন।

এই সিদ্ধান্তের পরই পূর্বধলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিভাজন দেখা দেয়। একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। অপর পক্ষ অধ্যাপক আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পেছনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করে।

এই বিষয়ে পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন জানান, “আমাকে হেয় করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, অত্যন্ত উদ্বেগেরও। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে।”

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে কলেজ এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এসকে/এনএন

আরও পড়ুন : দূর্গাপূজায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের বিশেষ প্রস্তুতি 

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

সাংবাদিক আলিফ হত্যা : অপূর্বর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

মোঃ নজরুল ইসলাম,  পূর্বধলা | এসকেনিউজ২৪ 

এক দিনের ব্যবধানে অধ্যক্ষের পদায়ন, দায়িত্ব গ্রহণ এবং সেই আদেশ বাতিল একের পর এক ঘটনায় নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

এর মধ্যেই রোববার গভীর রাতে কলেজের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরদিন সকালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের দুই পক্ষ।

এক পক্ষ তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে, অন্য পক্ষ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে প্রবেশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থী, কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। পরে তাঁরা কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দ মিছিল করেন।

এর আগে কলেজ ছাত্রদলের একাংশ ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে ছাত্রদলের অপর অংশ এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করলে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগের রাত, অর্থাৎ রোববার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের পাশের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নৈশপ্রহরীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে নৈশপ্রহরীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

কলেজে চলমান বিরোধের পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সেই নিয়োগ বাতিলের ঘটনা। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

কিন্তু পরদিন ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কারণে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে তাঁর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন স্থায়ী হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকেন আনোয়ারুল হক রতন।

এই সিদ্ধান্তের পরই পূর্বধলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিভাজন দেখা দেয়। একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। অপর পক্ষ অধ্যাপক আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পেছনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করে।

এই বিষয়ে পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন জানান, “আমাকে হেয় করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, অত্যন্ত উদ্বেগেরও। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে।”

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে কলেজ এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এসকে/এনএন

আরও পড়ুন : দূর্গাপূজায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের বিশেষ প্রস্তুতি