
নিজস্ব প্রতিনিধি| এসকেনিউজ২৪
বাইরে থেকে দেখলে স্রেফ সাধারণ একটি আবাসিক বাসা। কিন্তু সেই বাসার ভেতরেই গড়ে উঠেছিল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনীর গোপন গুদাম। অবশেষে পুলিশের অভিযানে ফাঁস হলো সেই গোপন কারবার। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় প্রসাধনী।
এ ঘটনায় চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ কাউছার (৩২)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান তার আপন ভাই ও চক্রের মূলহোতা মো. আল-আমিন (৩৫)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে কাউছারকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা শহরে সীমান্তপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় প্রসাধনী এনে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাতপাই এলাকার বায়েজীদ আহমেদের মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ কাউছারকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই বাসার মেঝে ও আলমারিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা প্রসাধনী জব্দ করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে—‘কেও কার্পিন বডি অয়েল’, ‘পন্ডস ব্রাইট বিউটি ক্রিম’, ‘ইমামী সেভেন অয়েল ইন ওয়ান’, ‘নবরত্ন অয়েল’, ‘ডোভ সিরাম বার সাবান’ ও ‘পন্ডস স্যান্ডেল পাউডার’সহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার কাউছার ও পলাতক আল-আমিনের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার উত্তর কাজলাপোতা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় প্রসাধনী এনে নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে আবাসিক এলাকার ওই ভাড়া বাসাটিকেই তারা প্রসাধনীর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আল-আমিনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : পুলিশে বড় রদবদল: একসঙ্গে বদলি ৯৬ কর্মকর্তা, ১২ অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৩ ডিআইজি
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















