
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পেট্রোল ঢেলে এক মনোহারী দোকানিকে আগুনে পুড়িয়ে গুরুতর দগ্ধ এবং দোকানে অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ইব্রাহীম খলিল (৩৮) বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দগ্ধ ইব্রাহীম খলিলের বাবা মো. সুলতান উদ্দিন (৬৮) বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মো. সুমন মিয়া (৩২), নবালী (৫৫), হুমায়ুন (৩৫), রতন মিয়া (২৫) ও আজিজুল (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহীম খলিল দীর্ঘদিন ধরে সাহিতপুর বাজারে মনোহারী ব্যবসা করে আসছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর অভিযুক্ত সুমন মিয়া তার দোকানে গিয়ে বাকিতে সিগারেট চান। ইব্রাহীম বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেখে নেওয়া এবং মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমনসহ অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দোকানে গিয়ে হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, নবালীর নির্দেশে সুমন একটি প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পেট্রোল ইব্রাহীমের শরীরে ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আগুন থেকে বাঁচতে ইব্রাহীম চিৎকার করতে করতে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এ সময় অভিযুক্তরা দোকানের ভেতরে ও বাইরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দোকানঘরসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, সাবান, কোমল পানীয়, তেল, ডাল, চাল, আটা-ময়দা, চিনি, দুধ, বিস্কুট, চানাচুরসহ বিভিন্ন পণ্য পুড়ে যায়। দোকানে থাকা ব্যবসায়িক নগদ টাকা ও বিকাশের অর্থসহ মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।
এ সময় বাজারের লোকজন পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সাহিতপুর বাজারের আরও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা মাইক্রোবাসযোগে দগ্ধ ইব্রাহীম খলিলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। পরদিন (২ অক্টোবর) তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, এ ঘটনায় মামলা করলে তাকে, তার দগ্ধ ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রেজাউল করিম জানান, ইতোমধ্যে আমারা মূল অভিযুক্ত মো. সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে বাকীদের ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, মামলা নং ৪ । যা গত ২ অক্টোবর এজাহারভুক্ত হয়।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















One thought on “দোকানদারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়ল নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল, গ্রেফতার ১”