
দিলওয়ার খান | এসকেনিউজ২৪
একসময় বর্ষা এলেই নেত্রকোনার হাওর, নদী, খাল-বিলে জাল ফেললেই মিলত শোল, গজার, বোয়াল, আইড়, পাবদা, টেংরা, কৈ, শিং, মাগুর, চিতল, ফলি, পুঁটি, মলা, ঢেলাসহ নানা দেশি মাছ। মাছের প্রাচুর্যে পরিচিত ছিল ‘মৎস্যভাণ্ডার’ নেত্রকোনা। সেই চিত্র এখন বদলে যাচ্ছে।
জেলায় ৬৮টি হাওর, ১৮৮টি নদ-নদী ও খাল-বিল এবং প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ হেক্টর জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয় থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের তথ্য থাকলেও প্রাকৃতিক জলাশয়ের দেশি মাছের প্রাচুর্য কমছে বলে স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য।
পোনা নিধনেই বড় সংকট
প্রজনন মৌসুমে চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন সূক্ষ্ম জালে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু ও পোনা ধরা পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষ প্রয়োগ, জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারও সংকট বাড়াচ্ছে।
চলতি বছরের মে-জুনে খালিয়াজুরীর হাওরাঞ্চলে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা রক্ষায় ৩১ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
জলাশয় আছে, নিরাপদ আবাস নেই
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পানি থাকলেই মাছ বাড়ে না; প্রয়োজন নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও জলজ পরিবেশ। খাল-বিলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পলি জমা, দ্রুত পানি কমে যাওয়া এবং আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় মাছের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিজমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
দিনভর জাল ফেলেও মিলছে না আগের মাছ
মাছ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন হাওরপারের জেলেরা। তাদের দাবি, আগে কয়েক ঘণ্টায় যে পরিমাণ মাছ মিলত, এখন দিনভর জাল ফেলেও তা পাওয়া যায় না। অথচ নৌকা, জাল, শ্রম ও জ্বালানির খরচ বেড়েই চলেছে।
নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, দেশি মাছ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে অন্তত এক মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের দিকে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তবে জনবল সংকটের কারণে মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম অনেক সময় কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমি অভিযান নয়, হাওর-নদী-খাল-বিলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, স্থায়ী অভয়াশ্রম, বন্ধ খাল পুনঃখনন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি।
নইলে বিপুল জলসম্পদ থাকা সত্ত্বেও ‘মৎস্যভাণ্ডার নেত্রকোনা’ নামটি একসময় শুধু স্মৃতিতেই থেকে যেতে পারে।
এসকে/এনডি
আরো পড়ুন : রাড্ডা কাণ্ডের পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির এমপি পদে ইতি, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















