
জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনা শহরের প্রবেশমুখ সাকুয়া বাজার। ব্যস্ত নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ টার্নিং, অন্যদিকে সড়কের ওপর বাজার ও মানুষের ভিড়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন স্থাপনা। সব মিলিয়ে সাকুয়া বাজারের এই অংশটি এখন সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল হলেই টার্নিংয়ের আশপাশে বাজার বসে। এতে মহাসড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং পথচারী, ক্রেতা ও যানবাহনের চলাচলে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশা বাঁক নেওয়ার সময় সামনে থাকা মানুষ কিংবা যানবাহন অনেক ক্ষেত্রে চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়।
সাকুয়া বাজারের ঝুঁকির বিষয়টি শুধু স্থানীয়দের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়; অতীতের দুর্ঘটনার ঘটনাও এর বাস্তবতা সামনে এনেছে।
২০২৩ সালের ৯ জুলাই এই এলাকায় বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে নিহত হন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন।
এর আগে ২০২২ সালের মার্চে সাকুয়া বাজারে বিকল একটি ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় দুজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট সাকুয়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আরও একজন নিহত এবং একজন আহত হন।
একই এলাকার বারবার দুর্ঘটনার এসব ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাই সামনে আনছে।
উচ্ছেদের পরও ফিরছে স্থাপনা, সংকুচিত হচ্ছে সড়ক
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের নির্মাণকাজের সময় যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেসব জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তা না হলে সড়কের জায়গা ধীরে ধীরে আবারও দখল বা স্থাপনার আওতায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সড়কের জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা।
২০২১ সালে সরেজমিন পরিদর্শন, প্রশ্ন স্থায়ী সমাধান নিয়ে
সাকুয়া বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ টার্নিং নিয়ে কয়েক বছর ধরেই আলোচনা রয়েছে। ২০২১ সালে নেত্রকোনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিআরটিএর কর্মকর্তারা এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাকুয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানও পরিচালনা করে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—শুধু অভিযান পরিচালনা করে কি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব?
নাকি প্রয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ টার্নিংটির প্রকৌশলগত পুনর্বিন্যাস, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কের জায়গা স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থা?
১০ বছরে ১৪ প্রাণহানির দাবি
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এআরএফবির দাবি, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গত ১০ বছরে সাকুয়া বাজার এলাকায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
তবে এই পরিসংখ্যানের সরকারি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পুলিশের দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হলে সাকুয়া বাজারের প্রকৃত দুর্ঘটনা পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সমাধান কী?
এলাকাবাসীর মতে, প্রথমেই সাকুয়া বাজারের টার্নিং পয়েন্টের প্রকৌশলগত ঝুঁকি নিরূপণ করা দরকার। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁকের নকশা পরিবর্তন, সড়কের পর্যাপ্ত প্রশস্ততা ও চালকদের দৃষ্টিসীমা নিশ্চিত করা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে টার্নিংয়ের ওপর বাজার বসা বন্ধ, সড়কসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদ করা জায়গা পুনর্দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে বলে মত তাদের।
স্থানীয়দের মতে, সাকুয়া বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এই পয়েন্টকে আগেই নিরাপদ করার দাবি তাদের।
কারণ সাকুয়া বাজার শুধু একটি বাজার নয়—এটি নেত্রকোনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। তাই এই প্রবেশপথে উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা—তিনটিই নিশ্চিত করার দাবি এখন স্থানীয়দের।
এসকে/এনডি
আরো পড়ুন : ময়মনসিংহে “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















One thought on “মৃত্যুফাঁদ সাকুয়া বাজারের বাঁক, নজরদারি ও স্থায়ী সমাধানের দাবি”