ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বর্ষায় জলরাশি, হেমন্তে সোনালি ধান—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ঘিরে গড়ে উঠতে পারে টেকসই পর্যটন

হাওরের বুকেই সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা 




 

দিলওয়ার খান, নেত্রকোণা | এসকেনিউজ২৪

বর্ষায় যতদূর চোখ যায়—শুধুই পানি আর পানি। দিগন্তজোড়া জলরাশি, ঢেউয়ের ছন্দ, নৌকার ছুটে চলা আর পানির আয়নায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য। আবার কয়েক মাস পর সেই একই জায়গা হয়ে ওঠে সবুজ-সোনালি ধানের বিশাল প্রান্তর। ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো ভূদৃশ্য।

প্রকৃতির এই অনন্য রূপান্তরের নাম খালিয়াজুরী—নেত্রকোনার ভাটির বুকজুড়ে বিস্তৃত এক হাওর জনপদ। এখানে প্রকৃতিই যেন পর্যটনের জন্য তৈরি করে রেখেছে এক বিশাল মঞ্চ। অথচ সম্ভাবনার তুলনায় পর্যটন অবকাঠামো এখনো অনেকটাই অনুপস্থিত।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খালিয়াজুরী উপজেলার আয়তন প্রায় ২৯৭ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। উপজেলার ১৩৪টি হাওরের আয়তন প্রায় ২৩ হাজার ২৮০ হেক্টর। এই বিশাল জলভূমিই হতে পারে খালিয়াজুরীর সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ।

বর্ষায় এক রূপ, হেমন্তে আরেক
বর্ষায় নৌকায় হাওরের বুক চিরে ছুটে চলা, চারদিকে শুধু জলরাশি দেখা, সূর্যাস্তের রঙ বদলানো আকাশ কিংবা জ্যোৎস্নারাতে নৌভ্রমণ—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য খালিয়াজুরী হতে পারে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার নাম।

আর হেমন্তে? তখন সেই জলরাশি সরে গিয়ে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ সবুজ-সোনালি বোরো ধানের মাঠ। শীত নামলে যোগ হতে পারে অতিথি পাখির বিচরণ। অর্থাৎ বছরের একেক ঋতুতে খালিয়াজুরী যেন একেকটি নতুন পর্যটন গন্তব্য।

এই ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে বছরজুড়ে পর্যটন কার্যক্রম গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

গোধূলির হাওর, ছবি : প্রতিনিধি

উদ্যোগের কথা উঠেছে, বাস্তবায়ন কতদূর?
খালিয়াজুরীর পর্যটন সম্ভাবনার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। সরকারি একটি প্রকাশনায় উপজেলার হেমনগর কান্দায় ২৬ একর খাস জমিতে ‘হেমনগর পর্যটন কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করা ও প্রকল্প প্রস্তাবের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

তবে সেই উদ্যোগ বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কতটা এবং নতুন করে পরিকল্পনা প্রয়োজন কি না—তা এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সরকারি উপজেলা পোর্টালের পর্যটন-সংক্রান্ত তালিকায় ‘পাঁচহাট জামে মসজিদ’কে পর্যটন স্পট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খালিয়াজুরী ইউনিয়নের সরকারি পোর্টালে রয়েছে চানপুর হাসার আখড়ার কথাও। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে যুক্ত করেও একটি সমন্বিত পর্যটন পরিকল্পনা করা সম্ভব।

পর্যটনের সঙ্গে বদলাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতি
খালিয়াজুরীর অর্থনীতি মূলত কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। এখানে পর্যটন বিকশিত হলে শুধু দর্শনার্থী বাড়বে না, তৈরি হতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র।

নৌযান, স্থানীয় খাবারের দোকান, মাছ ও কৃষিপণ্য বিক্রি, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পরিবহন—বিভিন্ন খাতে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান ও বাজার।

বিশেষ করে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নৌ-গাইড, ট্যুর গাইড কিংবা পর্যটনসেবা কর্মী হিসেবে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল সরাসরি পৌঁছাতে পারে স্থানীয় মানুষের ঘরে।

বড় স্থাপনা নয়, প্রয়োজন হাওরবান্ধব পর্যটন
খালিয়াজুরীর সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে কংক্রিটের বড় বড় স্থাপনার চেয়ে প্রয়োজন প্রকৃতিবান্ধব পরিকল্পনা। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে গড়ে তোলা যেতে পারে ইকো-ট্যুরিজমভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থা।

নির্দিষ্ট নৌরুট, নিরাপদ নৌঘাট, লাইফ জ্যাকেট, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার পথ, বসার জায়গা, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, পরিচ্ছন্ন টয়লেট, স্থানীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট, সীমিত আবাসন এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদন সুবিধা তৈরি করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে দিতে হবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

প্রকৃতি বাঁচিয়েই হতে হবে পর্যটন
পর্যটনের নামে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত নৌযান, প্লাস্টিক বর্জ্য, অতিরিক্ত শব্দ, অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই শুরুতেই প্রয়োজন পরিবেশগত সমীক্ষা, নির্দিষ্ট পর্যটন অঞ্চল ও নৌরুট নির্ধারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

একটি সমন্বিত উদ্যোগের অপেক্ষায়
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালিয়াজুরীর পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত সমীক্ষা করবে। হেমনগরসহ সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ভূমি, যোগাযোগ, পরিবেশ, নৌপথ, আবাসন ও বিনোদন সুবিধাকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে গড়ে তোলা হবে আধুনিক ও টেকসই হাওরভিত্তিক পর্যটন অঞ্চল।
কারণ খালিয়াজুরীর সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো কৃত্রিম স্থাপনা নয়—খালিয়াজুরীর সম্পদ তার হাওর।

বর্ষার জলরাশি, শরতের নীল আকাশ, হেমন্তের সোনালি ধান, শীতের অতিথি পাখি আর ভাটির মানুষের জীবন-সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে খালিয়াজুরী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভিন্নধর্মী এক পর্যটন গন্তব্য।

সমুদ্র নেই, কিন্তু সমুদ্রের মতো জলরাশি আছে।
পাহাড় নেই, কিন্তু দিগন্তজোড়া আকাশ আছে।
বড় কোনো কৃত্রিম স্থাপনা নেই, কিন্তু আছে প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক অপূর্ব ভূদৃশ্য।
খালিয়াজুরীর এখন প্রয়োজন শুধু সেই সৌন্দর্যকে রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

এসকে/এনডি

আরো পড়ুন : নেত্রকোনার গর্ব জিন্নাত, ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক বাংলাদেশের

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

বর্ষায় জলরাশি, হেমন্তে সোনালি ধান—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ঘিরে গড়ে উঠতে পারে টেকসই পর্যটন

হাওরের বুকেই সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা 

প্রকাশের সময় : ১১:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দিলওয়ার খান, নেত্রকোণা | এসকেনিউজ২৪

বর্ষায় যতদূর চোখ যায়—শুধুই পানি আর পানি। দিগন্তজোড়া জলরাশি, ঢেউয়ের ছন্দ, নৌকার ছুটে চলা আর পানির আয়নায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য। আবার কয়েক মাস পর সেই একই জায়গা হয়ে ওঠে সবুজ-সোনালি ধানের বিশাল প্রান্তর। ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো ভূদৃশ্য।

প্রকৃতির এই অনন্য রূপান্তরের নাম খালিয়াজুরী—নেত্রকোনার ভাটির বুকজুড়ে বিস্তৃত এক হাওর জনপদ। এখানে প্রকৃতিই যেন পর্যটনের জন্য তৈরি করে রেখেছে এক বিশাল মঞ্চ। অথচ সম্ভাবনার তুলনায় পর্যটন অবকাঠামো এখনো অনেকটাই অনুপস্থিত।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খালিয়াজুরী উপজেলার আয়তন প্রায় ২৯৭ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। উপজেলার ১৩৪টি হাওরের আয়তন প্রায় ২৩ হাজার ২৮০ হেক্টর। এই বিশাল জলভূমিই হতে পারে খালিয়াজুরীর সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ।

বর্ষায় এক রূপ, হেমন্তে আরেক
বর্ষায় নৌকায় হাওরের বুক চিরে ছুটে চলা, চারদিকে শুধু জলরাশি দেখা, সূর্যাস্তের রঙ বদলানো আকাশ কিংবা জ্যোৎস্নারাতে নৌভ্রমণ—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য খালিয়াজুরী হতে পারে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার নাম।

আর হেমন্তে? তখন সেই জলরাশি সরে গিয়ে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ সবুজ-সোনালি বোরো ধানের মাঠ। শীত নামলে যোগ হতে পারে অতিথি পাখির বিচরণ। অর্থাৎ বছরের একেক ঋতুতে খালিয়াজুরী যেন একেকটি নতুন পর্যটন গন্তব্য।

এই ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে বছরজুড়ে পর্যটন কার্যক্রম গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

গোধূলির হাওর, ছবি : প্রতিনিধি

উদ্যোগের কথা উঠেছে, বাস্তবায়ন কতদূর?
খালিয়াজুরীর পর্যটন সম্ভাবনার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। সরকারি একটি প্রকাশনায় উপজেলার হেমনগর কান্দায় ২৬ একর খাস জমিতে ‘হেমনগর পর্যটন কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করা ও প্রকল্প প্রস্তাবের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

তবে সেই উদ্যোগ বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কতটা এবং নতুন করে পরিকল্পনা প্রয়োজন কি না—তা এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সরকারি উপজেলা পোর্টালের পর্যটন-সংক্রান্ত তালিকায় ‘পাঁচহাট জামে মসজিদ’কে পর্যটন স্পট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খালিয়াজুরী ইউনিয়নের সরকারি পোর্টালে রয়েছে চানপুর হাসার আখড়ার কথাও। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে যুক্ত করেও একটি সমন্বিত পর্যটন পরিকল্পনা করা সম্ভব।

পর্যটনের সঙ্গে বদলাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতি
খালিয়াজুরীর অর্থনীতি মূলত কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। এখানে পর্যটন বিকশিত হলে শুধু দর্শনার্থী বাড়বে না, তৈরি হতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র।

নৌযান, স্থানীয় খাবারের দোকান, মাছ ও কৃষিপণ্য বিক্রি, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পরিবহন—বিভিন্ন খাতে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান ও বাজার।

বিশেষ করে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নৌ-গাইড, ট্যুর গাইড কিংবা পর্যটনসেবা কর্মী হিসেবে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল সরাসরি পৌঁছাতে পারে স্থানীয় মানুষের ঘরে।

বড় স্থাপনা নয়, প্রয়োজন হাওরবান্ধব পর্যটন
খালিয়াজুরীর সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে কংক্রিটের বড় বড় স্থাপনার চেয়ে প্রয়োজন প্রকৃতিবান্ধব পরিকল্পনা। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে গড়ে তোলা যেতে পারে ইকো-ট্যুরিজমভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থা।

নির্দিষ্ট নৌরুট, নিরাপদ নৌঘাট, লাইফ জ্যাকেট, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার পথ, বসার জায়গা, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, পরিচ্ছন্ন টয়লেট, স্থানীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট, সীমিত আবাসন এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদন সুবিধা তৈরি করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে দিতে হবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

প্রকৃতি বাঁচিয়েই হতে হবে পর্যটন
পর্যটনের নামে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত নৌযান, প্লাস্টিক বর্জ্য, অতিরিক্ত শব্দ, অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই শুরুতেই প্রয়োজন পরিবেশগত সমীক্ষা, নির্দিষ্ট পর্যটন অঞ্চল ও নৌরুট নির্ধারণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

একটি সমন্বিত উদ্যোগের অপেক্ষায়
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালিয়াজুরীর পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত সমীক্ষা করবে। হেমনগরসহ সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ভূমি, যোগাযোগ, পরিবেশ, নৌপথ, আবাসন ও বিনোদন সুবিধাকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে গড়ে তোলা হবে আধুনিক ও টেকসই হাওরভিত্তিক পর্যটন অঞ্চল।
কারণ খালিয়াজুরীর সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো কৃত্রিম স্থাপনা নয়—খালিয়াজুরীর সম্পদ তার হাওর।

বর্ষার জলরাশি, শরতের নীল আকাশ, হেমন্তের সোনালি ধান, শীতের অতিথি পাখি আর ভাটির মানুষের জীবন-সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে খালিয়াজুরী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভিন্নধর্মী এক পর্যটন গন্তব্য।

সমুদ্র নেই, কিন্তু সমুদ্রের মতো জলরাশি আছে।
পাহাড় নেই, কিন্তু দিগন্তজোড়া আকাশ আছে।
বড় কোনো কৃত্রিম স্থাপনা নেই, কিন্তু আছে প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক অপূর্ব ভূদৃশ্য।
খালিয়াজুরীর এখন প্রয়োজন শুধু সেই সৌন্দর্যকে রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

এসকে/এনডি

আরো পড়ুন : নেত্রকোনার গর্ব জিন্নাত, ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক বাংলাদেশের