নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মো. এহসানুল হক মাদ্রাসার অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের নন-এমপিওভুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি মনিটরে একটি কক্ষে এহসানুল হক ও এক নারীকে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর শিক্ষককে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, প্রথমে এহসানুল হক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।
অধ্যক্ষ জানান, ২৬ আগস্ট সিসিটিভি থেকে সংরক্ষণ করা ভিডিও দেখার পর বিষয়টি অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। একই দিন এহসানুল হকের ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং তাকে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধ করা হয়।
এরপর ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে শিক্ষকমণ্ডলীর জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি, জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, এহসানুল হকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল ও অনার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, “ঘটনাটি শোনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি, তা তারা ভালো বলতে পারবেন।”
এসকে/এনজে
আরো পড়ুন : আগামীকাল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
SK NEWS 24 BD সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.