ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতীম হত্যার রহস্যে নতুন মোড়, সিসিটিভির সূত্রে আটক ৩




 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—তুহিন, ফাহিম আহমেদ ও আনাস। প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এবং কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়।

ছবি তুলতে বেরিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতীম
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।

পরে অপ্রতীমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় অপ্রতীমের সঙ্গে মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সিসিটিভি ও জিজ্ঞাসাবাদ
অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের গতিবিধি এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তাধীন এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

এসকে/এনএম 

আরো পড়ুন : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

অপ্রতীম হত্যার রহস্যে নতুন মোড়, সিসিটিভির সূত্রে আটক ৩

প্রকাশের সময় : ০১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—তুহিন, ফাহিম আহমেদ ও আনাস। প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এবং কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়।

ছবি তুলতে বেরিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতীম
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।

পরে অপ্রতীমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় অপ্রতীমের সঙ্গে মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সিসিটিভি ও জিজ্ঞাসাবাদ
অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের গতিবিধি এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তাধীন এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

এসকে/এনএম 

আরো পড়ুন : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন