জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণা পৌরসভার নাম ব্যবহার করে ট্রাক স্ট্যান্ডের ইজারা ও বিভিন্ন ফি আদায়ের নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ট্রাক মালিক, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নেত্রকোণা পৌরসভা। একই সঙ্গে পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে নেত্রকোণা পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ট্রাক স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাক স্ট্যান্ডের নামে কোনো ধরনের চাঁদা, ফি বা ইজারার অর্থ আদায়ের জন্য পৌরসভা কাউকে দায়িত্ব বা অনুমোদন দেয়নি। এ ধরনের অর্থ আদায়ের জন্য পৌরসভা থেকে কোনো রশিদও ছাপানো হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে সম্প্রতি বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার নাম ও রশিদ ব্যবহার করে ট্রাক থামিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পায় পৌর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পৌরসভা থেকে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া কেউ পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করলে সেটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত ও বেআইনি। তাই ট্রাক মালিক, চালক, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পৌরসভার নামে কোনো ধরনের রশিদে অর্থ প্রদান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, “নেত্রকোণা পৌরসভা চলতি বছরে ট্রাক স্ট্যান্ড ইজারা দেয়নি এবং এ কারণে ট্রাক স্ট্যান্ডের নামে অর্থ আদায়ের জন্য কাউকে দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। কেউ পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করলে তা অনুমোদিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, পৌরসভার অনুমোদিত কোনো কার্যক্রম বা ফি থাকলে তার বিপরীতে বৈধ রশিদ ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া থাকবে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো অনুমোদনহীন ব্যক্তি/গোষ্ঠীর মাধ্যমে পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি জেলা পুলিশকে অবহিত করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “কোথাও অবৈধভাবে চাঁদাবাজি বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
পৌরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কতামূলক বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পৌরসভার নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন খাতে অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধে মালিক-চালক ও শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো রশিদ বা অর্থ আদায়ের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে অর্থ পরিশোধ না করে পৌরসভা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষের আহ্বান—সচেতন হোন, অননুমোদিত লেনদেন থেকে বিরত থাকুন এবং পৌরসভার নাম ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ আদায়ের যেকোনো ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
এসকে/এনডি
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.