কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় রাতের আঁধারে শত শত মানুষের চলাচলের রায়পুর জিপিএস টু চুচিয়া বিল সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পুর পাছপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দেড় বছর আগে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি তৈরি করা হয়। পরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সরকারি বরাদ্দের ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়ন করা হয়। সড়কটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। আরো জানান, ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে রাস্তাটি কেটে ফেলা হয়েছে।
ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি এর নিন্দা জানাই। সেই সাথে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল হক রনি বলেন, প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমে এবং পরে সরকারি বরাদ্দের অর্থে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত শরীফ হাসান ভূঞাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলেও অভিযোগ করেন।
তবে সড়ক কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. শরীফ হাসান ভূঞা ও মো. শরীফ চৌধুরী। শরীফ হাসান ভূঞা বলেন, আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর সাময়িক চলাচলের জন্য রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। পাশের সরকারি হালটটি একসময় ব্যক্তি দখলে থাকায় ওই রাস্তা দিয়ে সাময়িক চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি হালটটি উদ্ধার হওয়ায় রাতের আঁধারে নয়, দিনের বেলায় এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তাটি কাটা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কাটা রাস্তাটির কোনো আইডি নম্বর নেই। জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজস্ব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কাবিখার মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি করা হয়েছিল। অথচ রাস্তাটি এভাবে কেটে ফেলা হলো। আমাকে পর্যন্ত জানানো হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধে নেত্রকোণায় মোবাইল কোর্ট
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.