নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ইজারা ও অনুমোদিত সীমার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, বালুবাহী নৌকা ও ট্রাক জব্দ এবং জরিমানা-কারাদণ্ডের পরও একই নদীতে ফের ড্রেজার নামানোর অভিযোগ উঠছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নদী ও পরিবেশের ওপরও পড়ছে বিরূপ প্রভাব।
তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি বালুমহাল প্রায় ৭৭ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে ইজারার বাইরে বা অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত বালু উত্তোলন হলে সরকার সম্ভাব্য বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে উত্তোলিত বালু বিক্রির অর্থ চলে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের হাতে।
গত কয়েক বছরে জেলার নদীগুলো থেকে কী পরিমাণ বালু অবৈধভাবে উত্তোলন হয়েছে, এর আনুমানিক বাজারমূল্য কত এবং এতে সরকারের কত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে—এসব তথ্য বের করতে প্রশাসনিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বালুবাহী নৌকা ও ট্রাক জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযানের পরও একই এলাকায় অবৈধ উত্তোলন অব্যাহত থাকার অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে—অভিযানের পর আবার কারা নদীতে ড্রেজার নামাচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে?
অবৈধ বালু উত্তোলনের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, হুমকি ও হামলার অভিযোগও রয়েছে। বারহাট্টার তেগুড়িয়া বাজার এলাকায় বালুবাহী গাড়ির ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর তদন্ত ও দৃশ্যমান আইনগত অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের।
স্থানীয়ভাবে খায়রুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। একই ব্যক্তিকে ঘিরে বালুবাহী ট্রাক ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও মাদক পরিবহনের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু শ্রমিক, মাঝি কিংবা ট্রাকচালকদের আটক ও জরিমানা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে হবে। ড্রেজার ও নৌযানের মালিক, অর্থের জোগানদাতা, বালুর ক্রেতা, বিক্রির ঘাট এবং প্রতিদিনের লেনদেন—সবকিছুর তথ্য অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
তাদের মতে, নদী ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ও রাজস্ব সুরক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত তদন্ত। তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এখন প্রশ্ন শুধু কে নদী থেকে বালু তুলছে, তা নয়—প্রশ্ন হলো, সরকারি সম্পদ থেকে কারা লাভবান হচ্ছে এবং ধারাবাহিক অভিযানের পরও কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বারবার ফিরে আসছে নেত্রকোণার অবৈধ বালু বাণিজ্য?
এসকে/এনএন
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.