সুমন মাহমুদ শেখ, হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ১নং বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজব আলী (৪০)। নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও সম্প্রতি তিন সন্তানের জননী অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন।
এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী সাজেদ মিয়া (৩৫) বাদি হয়ে আদালতে আজব আলীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
গত ৬ জুলাই আদালতে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী সাজেদ মিয়া। তিনি উপজেলার ২নং বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের বানিয়াজোড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে সাজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের বকুল মিয়ার একমাত্র কন্যা রাবেয়ার। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিনটি সন্তান রয়েছে। ছোট মেয়ের বয়স ১১ মাস মাত্র।
রাবেয়া পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাদের প্রতিবেশী আজব আলী দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতো। এতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। সম্প্রতি মধুপুরে অবস্থানকালে গত ৪ঠা জুলাই মধ্যরাতে আজব আলী ঘরের বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে প্রথমে রাবেয়ার বৃদ্ধ বাবা বকুল মিয়ার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁর থেকে গরু বিক্রি করে রাখা নগদ (৫৯০০০৳) ঊনষাট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারপর ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাঁর একমাত্র মেয়ে ও সাজিদ মিয়ার স্ত্রী তিন সন্তানের জননী রাবিয়াকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ঘরের পেছনের বেড়া কেটে পালিয়ে যায়। এ সময় তার বৃদ্ধ বাবা বকুল মিয়া বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা রেকর্ড ও আসামি গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আজব আলী বঙ্গ টাইমস প্রতিনিধিকে বলেন, “রাবিয়াকে জোর করে নিয়ে যাইনি। সে স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে এসেছে। তারা বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।”
এদিকে আজব আলীর দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হবি মিয়া বলেন, ‘পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। এ ঘটনার পর এলাকার ৫০-৬০ জন বাসিন্দা লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত।’ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাদিছুর রহমানের কাছে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বঙ্গ টাইমসকে বলেন- “তার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা এখনো আমার হাতে পৌঁছেনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসকে/এনএস
আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় পঞ্চায়েত ভেঙে বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় যুবককে মারধর, চাঁদা দাবি ও গৃহবন্দীর অভিযোগ
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.