নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
চলতি বছরের আগাম বন্যায় ফসল হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন নেত্রকোণার হাজারো কৃষক। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিশেষ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করলেও মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নে প্রণোদনার তালিকা নিয়ে উঠেছে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, যাদের ফসল বন্যায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে তাদের অনেকের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। বিপরীতে, কৃষিজমি নেই কিংবা কোনো ক্ষতির মুখে না পড়া ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, এপ্রিল ও মে মাসে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার প্রায় ২২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৭৩ হাজার কৃষক ক্ষতির শিকার হন। তাদের পুনর্বাসনে সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
তবে তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক মো. আলাল মিয়ার অভিযোগ, প্রায় সাত একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হলেও তার নাম তালিকায় রাখা হয়নি। তিনি বলেন, “আমার সব ফসল নষ্ট হয়েছে, কিন্তু কোনো সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেলাম না। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে।”
একই অভিযোগ করেন কৃষক ইসলাম উদ্দিন। তিনি জানান, বিলে থাকা তার অধিকাংশ ফসল বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের সহায়তা পেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু তালিকায় তার নাম নেই।
অভিযোগের বিষয়ে তেতুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রণোদনার কার্ড এসেছে এক হাজারেরও কম। সীমিত সংখ্যক কার্ডের কারণে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এক ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস ধরে প্রতি মাসে ১৫ কেজি চাল ও তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহ দেওয়া।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেন খাতুন বলেন, তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লিখিত আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগাম বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইয়ে থাকা কৃষকদের প্রত্যাশা, প্রণোদনা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতেই পৌঁছায়। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা।
এসকে/এনএন
আরো পড়ুন : পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে দুকূল হারালেন তিন সন্তানের জননী, প্রেমিক উধাও
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.