
নিজস্ব প্রতিনিধি :
দুর্গাপুরে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা এক পোশাক শ্রমিককে (৩৭) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার দুই যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাঁদের নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো দুজন হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার মধ্যবাজার এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে হাসিবুল হাসান (২৫) ও জালাল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল হাসান রাব্বি (২৬)। মামলার অপর আসামি একই এলাকার মৃত সিদ্দিকের ছেলে আশিক মিয়া (২৬)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করে।
পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাঁর স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। জীবিকার তাগিদে তাঁরা ঢাকায় থাকেন। পূজার ছুটিতে গত ১৯ অক্টোবর ওই নারী দুর্গাপুরে নিজ বাড়িতে আসেন।
পূজা উপলক্ষে তাঁর খালাতো ভাই, পেশায় পুরোহিত যতন চক্রবর্তীও দুর্গাপুরে আসেন। স্থানীয় বিপিনগঞ্জ পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান। রাতের খাবার শেষে তাঁরা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
অভিযোগে বলা হয়, ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে প্রতিবেশী তিন যুবক ওই নারীর বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। তিনি বাতি জ্বালিয়ে দরজা খুললে অভিযুক্তরা তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের রান্নাঘরে নিয়ে যান।
সেখানে হাসিবুল হাসান ও আশিক মিয়া তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অপর অভিযুক্ত হাফিজুল হাসান রাব্বি তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি সুযোগ পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে তাঁর খালাতো ভাইসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় তিনি অভিযুক্ত তিনজনকে চিনতে পেরেছেন। ঘটনার পর মুঠোফোনে স্বামী ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান তিনি।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারী অত্যন্ত দরিদ্র। ভয়ে তিনি প্রথমে মুখ খুলতে পারছিলেন না। এ কারণে স্থানীয় সালিশে রাজি হচ্ছিলেন। পরে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা নেওয়া হয়।’
ওসি শাকের আহমেদ জানান, গ্রেফতার দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : দুই বছর পর ফেরত এলো ৬ বাংলাদেশী
এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে | দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 


















