ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎কেন্দুয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘিরে রাস্তা না দেওয়ার অভিযোগ




 

​মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া : 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১০ নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের বিপ্রবর্গ গ্রামে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মামুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের যাতায়াতের রাস্তা দিতে গড়িমসি করছেন এবং প্রতিবাদ করায় ভিটা ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এই দুর্ভোগের চিত্র জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,হাওরের মাঝখানে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা ওই পাঁচবাড়িতে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল বা কোনো যানবাহন চলাচলের ন্যূনতম পথ নেই। দূরে অন্য কারো বাড়িতে যানবাহন রেখে ফসলি ক্ষেতের অত্যন্ত সরু আইল দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। প্রায় চার দশক ধরে এভাবেই সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করে যাতায়াত করছেন তারা।

ভুক্তভোগী সিরাজ মিয়া জানান, তাদের বসতভিটার তিন পাশে তার চাচাতো ভাই সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিনের জমি এবং পিছন দিকে সাবেক সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের জায়গা। মাইন উদ্দিন বর্তমানে কেন্দুয়া পৌর শহরের মধ্য সাউদপাড়া এলাকায় বসবাস করলেও মাঝে মাঝে জন্মস্থানে আসেন।

তিনি আরও বলেন, “গতকাল এক সাংবাদিক আমাদের বাড়িতে আমন্ত্রণে এসে যাতায়াতের এমন দুর্ভোগ দেখে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টটি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ মাইন উদ্দিন মাস্টার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন, পথের মাঝে এবং জমির আইলে খুঁটি পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখবেন।”

সিরাজ মিয়ার স্ত্রী আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মাইন উদ্দিন মাস্টার চারপাশ ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দিলে আমরা ভিটেমাটিতে থাকতে পারব না।”

গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদির, ফুল মিয়া ও ইদু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাড়িটির দুর্ভোগ কোনোদিন শেষ হচ্ছে না। সামান্য যাতায়াতের পথটুকু না থাকায় পরিবারগুলো কার্যত বন্দি জীবন কাটাচ্ছে।

আমরা স্থানীয় এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত একটি সমাধানের পথ বের হয়।”

​অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিন সকল হুমকি-ধামকির কথা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি চলাচলের রাস্তার বিষয়ে কোনো বাধা দিইনি। ওই পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য রাস্তা হোক–আমিও এর পক্ষে।”

এসকে/এনআই

আরও পড়ুন : ৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন, কেন্দুয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবের সমাপ্তি

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে |দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

‎শার্শায় ১৮টি স্বর্ণের বারসহ একজন গ্রেফতার, পালিয়েছে আরও দুজন

‎কেন্দুয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘিরে রাস্তা না দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৩:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

​মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া : 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১০ নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের বিপ্রবর্গ গ্রামে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মামুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের যাতায়াতের রাস্তা দিতে গড়িমসি করছেন এবং প্রতিবাদ করায় ভিটা ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এই দুর্ভোগের চিত্র জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,হাওরের মাঝখানে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা ওই পাঁচবাড়িতে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল বা কোনো যানবাহন চলাচলের ন্যূনতম পথ নেই। দূরে অন্য কারো বাড়িতে যানবাহন রেখে ফসলি ক্ষেতের অত্যন্ত সরু আইল দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। প্রায় চার দশক ধরে এভাবেই সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করে যাতায়াত করছেন তারা।

ভুক্তভোগী সিরাজ মিয়া জানান, তাদের বসতভিটার তিন পাশে তার চাচাতো ভাই সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিনের জমি এবং পিছন দিকে সাবেক সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের জায়গা। মাইন উদ্দিন বর্তমানে কেন্দুয়া পৌর শহরের মধ্য সাউদপাড়া এলাকায় বসবাস করলেও মাঝে মাঝে জন্মস্থানে আসেন।

তিনি আরও বলেন, “গতকাল এক সাংবাদিক আমাদের বাড়িতে আমন্ত্রণে এসে যাতায়াতের এমন দুর্ভোগ দেখে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টটি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ মাইন উদ্দিন মাস্টার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন, পথের মাঝে এবং জমির আইলে খুঁটি পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখবেন।”

সিরাজ মিয়ার স্ত্রী আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মাইন উদ্দিন মাস্টার চারপাশ ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দিলে আমরা ভিটেমাটিতে থাকতে পারব না।”

গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদির, ফুল মিয়া ও ইদু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই বাড়িটির দুর্ভোগ কোনোদিন শেষ হচ্ছে না। সামান্য যাতায়াতের পথটুকু না থাকায় পরিবারগুলো কার্যত বন্দি জীবন কাটাচ্ছে।

আমরা স্থানীয় এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত একটি সমাধানের পথ বের হয়।”

​অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মোঃ মাইন উদ্দিন সকল হুমকি-ধামকির কথা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি চলাচলের রাস্তার বিষয়ে কোনো বাধা দিইনি। ওই পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য রাস্তা হোক–আমিও এর পক্ষে।”

এসকে/এনআই

আরও পড়ুন : ৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন, কেন্দুয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবের সমাপ্তি

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে |দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন