
নেত্রকোণা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে আবারও দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর গত ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বহিষ্কৃত নেতার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হক সোহেলের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তাঁর পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় যুবদল সোহেলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বলে জানা গেছে। অর্চনা রানী দাস অভিযুক্ত সোহেলের প্রতিবেশী।
এর আগে গত ৪ জুলাই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন তদবির এবং বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
মোজাম্মেল হক সোহেল উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হক সোহেল। তিনি দাবি করেন, তিনি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহেল বলেন, তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর বাবা-মা নিজের অজান্তে কিছু বলে থাকতে পারেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবেশী অর্চনা রানী দাসের ভাবির কাছে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে সোহেল বলেন, সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচিত করে সংসদ সদস্যের কাছে নিয়ে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেছে।
সোহেল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
এসকে/এনআই
এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে | নেত্রকোনার খবরসহ দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















One thought on “নেত্রকোনায় বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার ”