ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে ৪ লাখ টাকা দাবি, স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ



নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনার মদনে ব্যবসার জন্য শাশুড়ির কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং নতুন করে আরও চার লাখ টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী আসমা আক্তার (২১)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী।

অভিযুক্তরা হলেন আসমার স্বামী মেহিদী হাসান (২৮), শ্বশুর ইয়াসিন মিয়া (৫৫), শাশুড়ি পেয়ারা আক্তার (৫০) ও দেবর গোলাম রাব্বি (২৬)। তাঁদের বাড়ি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুটুরিকোণা গ্রামে। আসমা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দশধরী গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মুন্সীর মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে আসমা ও মেহিদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসা করার কথা বলে আসমার মায়ের কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন মেহিদী। পরে তিনি আরও চার লাখ টাকা দাবি করেন। আসমার মা ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে মেহিদী আবারও চার লাখ টাকা দাবি করেন। আসমা তাঁর মায়ের কাছে টাকা না থাকার কথা জানালে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় তাঁকে একটি কক্ষে আটকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তলপেটে লাথি মারার কারণে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আসমা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী মেহিদী হাসান। তাঁর দাবি, ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, যার প্রমাণও রয়েছে। আসমাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, রোববার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় কন্যাশিশু দিবসের র‍্যালি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে 

One thought on “মদনে ৪ লাখ টাকা দাবি, স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

মদনে ৪ লাখ টাকা দাবি, স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনার মদনে ব্যবসার জন্য শাশুড়ির কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং নতুন করে আরও চার লাখ টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী আসমা আক্তার (২১)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী।

অভিযুক্তরা হলেন আসমার স্বামী মেহিদী হাসান (২৮), শ্বশুর ইয়াসিন মিয়া (৫৫), শাশুড়ি পেয়ারা আক্তার (৫০) ও দেবর গোলাম রাব্বি (২৬)। তাঁদের বাড়ি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুটুরিকোণা গ্রামে। আসমা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দশধরী গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মুন্সীর মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে আসমা ও মেহিদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসা করার কথা বলে আসমার মায়ের কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন মেহিদী। পরে তিনি আরও চার লাখ টাকা দাবি করেন। আসমার মা ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে মেহিদী আবারও চার লাখ টাকা দাবি করেন। আসমা তাঁর মায়ের কাছে টাকা না থাকার কথা জানালে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় তাঁকে একটি কক্ষে আটকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তলপেটে লাথি মারার কারণে রক্তক্ষরণ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন আসমা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী মেহিদী হাসান। তাঁর দাবি, ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, যার প্রমাণও রয়েছে। আসমাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, রোববার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় কন্যাশিশু দিবসের র‍্যালি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে