ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যে থামবে না মেয়েদের স্বপ্ন : প্রধানমন্ত্রী



নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

বাল্যবিয়ে, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও বৈষম্যের কারণে কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মেয়েরা যেন নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনা বিকশিত করে স্বাধীনভাবে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এ বছরের জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘বাল্যবিয়ে আর নয়, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়’। দিবসটি উপলক্ষে কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং বাল্যবিয়ে ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মেয়েদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া হলে তারাই ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম যেন আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। কোনো কারণেই যেন কোনো মেয়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং নিজের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবারের নারীপ্রধানদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি অংশ। পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ডিজিটাল পরিসরেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি মেয়ে ভয়হীনভাবে চলাফেরা, পড়াশোনা, মতপ্রকাশ ও নিজের ভাবনা তুলে ধরতে পারে।

বাণীর শেষাংশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে দেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবক এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন : নেপালে ভূমিধসের পর নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৫

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে 

One thought on “বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যে থামবে না মেয়েদের স্বপ্ন : প্রধানমন্ত্রী”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যে থামবে না মেয়েদের স্বপ্ন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

বাল্যবিয়ে, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও বৈষম্যের কারণে কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মেয়েরা যেন নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনা বিকশিত করে স্বাধীনভাবে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এ বছরের জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘বাল্যবিয়ে আর নয়, কন্যাশিশুর বিশ্বজয়’। দিবসটি উপলক্ষে কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং বাল্যবিয়ে ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মেয়েদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া হলে তারাই ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম যেন আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। কোনো কারণেই যেন কোনো মেয়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং নিজের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবারের নারীপ্রধানদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি অংশ। পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ডিজিটাল পরিসরেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি মেয়ে ভয়হীনভাবে চলাফেরা, পড়াশোনা, মতপ্রকাশ ও নিজের ভাবনা তুলে ধরতে পারে।

বাণীর শেষাংশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে দেশের সব কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবক এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন : নেপালে ভূমিধসের পর নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৫

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে