
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধ । এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৩২ কাঠা জমিতে ফসল উৎপাদন করতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এক কৃষক। একই সঙ্গে জমিটি বন্ধক নেওয়া কয়েকটি পরিবারও ধান উৎপাদন করতে না পেরে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের মাইজপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিগুলোতে কোনো ফসল নেই। জমিগুলো পতিত পড়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান হাবিব মৃত ইছহাক মিয়ার ছেলে। তিনি দাবি করেন, দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র এবং আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে জমিটির মালিক তিনি। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে মৃত শামস উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সোবহানসহ তাঁর ভাইয়েরা জোরপূর্বক তাঁকে জমিতে ফসল উৎপাদন করতে দিচ্ছেন না।
হাবিবুর রহমান বলেন, দলিলসহ জমির মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র রয়েছে আমার কাছে। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতের ডিক্রিও আমার পক্ষে রয়েছে। তারপরও আমাকে জমিতে ফসল ফলাতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিষয়টি সমাধানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বিআরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন। তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যের বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে, হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে জমি বন্ধক নেওয়া কয়েকটি পরিবারও ফসল উৎপাদন করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে। পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, বছরের পর বছর তাঁরা ওই জমিতে ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু এবার বাধার মুখে ধান উৎপাদন করতে না পারায় তাঁদের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ কারণে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র উত্তেজনার পাশাপাশি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনাও চলছে ।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসকে/এনএম
আরও পড়ুনঃ দেশীয় মাছ রক্ষায় কেন্দুয়ায় মোবাইল কোর্ট : জব্দ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
এসকেনিউজ২৪ । সত্যের পথে কলমের সাথে
সম্পাদনায়_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















One thought on “মালিকানা বিরোধে অনাবাদি ৩২ কাঠা জমি, কেন্দুয়ায় ফসল ফলাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় কৃষক”