
নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
রাজধানীর যানজট কমাতে ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বা রুটভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালিত হবে। পাশাপাশি যাত্রীসেবায় চালু থাকবে কাউন্টারভিত্তিক টিকিট, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাসের স্টপেজ নির্ধারণ, জরাজীর্ণ বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে কয়েকটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ঢাকাকে ৩২টি রুটে ভাগ করে ছয় মাসের মধ্যে সব রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস বন্ধের উদ্যোগ
বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করায় যাত্রী ওঠানো-নামানো নিয়ে প্রতিযোগিতা, বিশৃঙ্খলা ও যানজট সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করে। এর আগে ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) রাজধানীতে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতিতে বাস চলাচল শুরু হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্স-সিলভা ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি যৌথভাবে এ সেবা চালু করে। নির্ধারিত কাউন্টার থেকে ই-টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রীরা নির্দিষ্ট স্টপেজে ওঠানামার সুযোগ পেতেন।
তবে ওই রুটের অন্য কোম্পানিগুলোর বাসকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলোও কার্যত অব্যবহৃত পড়ে থাকে।
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বাসমালিকদের সাড়া না পাওয়ায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
৩২ রুটের পরিকল্পনা ডিটিসিএর
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাসমালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণসহ বাসের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও বাস চলাচলের রুট ও বাসের সংখ্যা নির্ধারণের দায়িত্ব আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি)। ঢাকায় এ কমিটির সভাপতি মহানগর পুলিশ কমিশনার।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে বাস কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১২০টি। এসব কোম্পানির সাত হাজারের বেশি বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক রুট ও কোম্পানির কার্যক্রম নেই। অন্যদিকে, একই রুটে আট থেকে দশটি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলাচল করছে।
দেশজুড়ে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ
এদিকে, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি খেলার মাঠ সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং মাঠ তৈরির নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।
এসকে/এনএম
আরও পড়ুনঃ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি, লক্ষ্য জাতীয় গ্রিডে দ্রুত সংযোগ
এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে
সম্পাদনায়_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 


























One thought on “ছয় মাসের মধ্যে ঢাকায় চালু হচ্ছে রুটভিত্তিক বাসসেবা, দুই মাসে নির্ধারিত হবে স্টপেজ”