ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহসী সাংবাদিক ও বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই




 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | এসকেনিউজ২৪

সাহসী সাংবাদিক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারকে জানাই গভীর শোক ও সমবেদনা।

সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়—সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনমত গঠনেরও অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অঙ্গনেও রয়েছে তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা।

১৯৬৭ সালের ১৪ জুন জন্ম নেওয়া তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়। সেখান থেকেই শুরু হয় সংবাদপত্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ পেশাগত পথচলা।

পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টার-এ কূটনৈতিক প্রতিবেদক, বিজনেস এডিটর, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পত্রিকাটির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ সহকারী সম্পাদক ও সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় কূটনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতি ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

বিবিসিতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার পাশাপাশি বহুল আলোচিত ‘ডিবেট’ অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন তিনি।

সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন তিনি। প্যারিসের জার্নালিস্টস ইন ইউরোপ ফাউন্ডেশন এবং জাপান ফরেন প্রেস সেন্টার-এর ফেলো হিসেবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

দেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল সাংবাদিকতায়ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ-টু-সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে এশিয়া-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবকের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমেও সম্পৃক্ততা

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির ২০১২ ও ২০১৫ সালের কার্যক্রমে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০০৮ সালে বার্তা সংস্থাগুলোর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি এবং ২০০৭ সালে ঢাকার নদী রক্ষায় গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবেও কাজ করেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের তালিকাও দীর্ঘ। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন।

এ ছাড়া ২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ শীর্ষক সম্মেলনে প্যানেল আলোচক হিসেবেও বক্তব্য দেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে কাজের বিস্তৃত পরিধি এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অঙ্গনে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কোম্পানি বাংলাদেশ নিউজ ২৪ আওয়ার্স লিমিটেডের একজন পরিচালক ও অংশীদারও ছিলেন তিনি।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : ধর্ষণ, বলাৎকার, চাঁদাবাজি, হত্যা—অপরাধের কাছে কি অসহায় সমাজ?

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

সাহসী সাংবাদিক ও বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই

প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | এসকেনিউজ২৪

সাহসী সাংবাদিক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারকে জানাই গভীর শোক ও সমবেদনা।

সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়—সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনমত গঠনেরও অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অঙ্গনেও রয়েছে তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা।

১৯৬৭ সালের ১৪ জুন জন্ম নেওয়া তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়। সেখান থেকেই শুরু হয় সংবাদপত্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ পেশাগত পথচলা।

পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টার-এ কূটনৈতিক প্রতিবেদক, বিজনেস এডিটর, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পত্রিকাটির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ সহকারী সম্পাদক ও সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় কূটনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতি ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

বিবিসিতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা

২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার পাশাপাশি বহুল আলোচিত ‘ডিবেট’ অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন তিনি।

সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন তিনি। প্যারিসের জার্নালিস্টস ইন ইউরোপ ফাউন্ডেশন এবং জাপান ফরেন প্রেস সেন্টার-এর ফেলো হিসেবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

দেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল সাংবাদিকতায়ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি অর্জন করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ-টু-সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে এশিয়া-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবকের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমেও সম্পৃক্ততা

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির ২০১২ ও ২০১৫ সালের কার্যক্রমে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ২০০৮ সালে বার্তা সংস্থাগুলোর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি এবং ২০০৭ সালে ঢাকার নদী রক্ষায় গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবেও কাজ করেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণ

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের তালিকাও দীর্ঘ। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন।

এ ছাড়া ২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ শীর্ষক সম্মেলনে প্যানেল আলোচক হিসেবেও বক্তব্য দেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, দেশ-বিদেশে কাজের বিস্তৃত পরিধি এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অঙ্গনে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কোম্পানি বাংলাদেশ নিউজ ২৪ আওয়ার্স লিমিটেডের একজন পরিচালক ও অংশীদারও ছিলেন তিনি।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : ধর্ষণ, বলাৎকার, চাঁদাবাজি, হত্যা—অপরাধের কাছে কি অসহায় সমাজ?