ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোবরেও পদ্ম ফোটে, খালিয়াজুরীর শুভ এখন জজ




 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

গোবরে যেমন পদ্ম ফোটে তেমনি প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুর গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই গ্রাম থেকেই স্বপ্নকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাওয়া শুভ আহম্মেদ এখন সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিয়েই মেধাতালিকায় ৮০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত কিংবা প্রত্যন্ত জনপদ যে মেধা ও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না—শুভর সাফল্য যেন তারই উজ্জ্বল প্রমাণ। যেন প্রচলিত সেই কথাটিই সত্যি করে দেখালেন তিনি—‘গোবরে পদ্ম ফোটে।’

খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত জগন্নাথপুর গ্রামের সন্তান শুভ নিজের গ্রামের বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় নবম স্থান অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দেন তিনি।

আইন বিভাগে পড়ার শুরু থেকেই বিচারক কিংবা প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার স্বপ্ন লালন করতেন শুভ। সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার কৌশল নিয়েও ছিলেন সচেতন। শেষ পর্যন্ত প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শুভ আহম্মেদ বলেন, ‘আইন বিভাগে ভর্তির পর থেকেই জজ বা অ্যাডমিন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। বাবার পরিশ্রম আর মায়ের স্বপ্ন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। আমি চাইতাম নিজের আলাদা একটা ভ্যালু তৈরি করতে। প্রস্তুতির সময় নিজেকে কখনো ফাঁকি দিইনি, বরং পড়াশোনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কৌশলী হওয়ার চেষ্টা করেছি।’
বিচারক হিসেবে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও নিজের প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন শুভ। তাঁর ভাষায়, ‘আদালত মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত জায়গা। মানুষ নিরুপায় হয়েই সেখানে যায়। আমি চেষ্টা করব আমার আইনি জ্ঞান ও বাধ্যবাধকতা মেনে মানবিকতার জায়গা থেকে মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ২০০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তাদেরই একজন খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত গ্রামের শুভ আহম্মেদ।

তাঁর এই অর্জন শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি হাওরাঞ্চলের মাটিতে বেড়ে ওঠা এক তরুণের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের গল্প। যেখানে চারপাশে ছিল সীমাবদ্ধতা, সেখান থেকেই নিজের যোগ্যতায় পথ তৈরি করে বিচারকের আসনে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন শুভ।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : মাদকাসক্তি শুধু মানুষের জীবনকেই নয় বরং পুরো পরিবার-সমাজের ক্ষতি করে- ইউএনও আরিফুল ইসলাম

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

গোবরেও পদ্ম ফোটে, খালিয়াজুরীর শুভ এখন জজ

প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

গোবরে যেমন পদ্ম ফোটে তেমনি প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুর গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই গ্রাম থেকেই স্বপ্নকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাওয়া শুভ আহম্মেদ এখন সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিয়েই মেধাতালিকায় ৮০তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত কিংবা প্রত্যন্ত জনপদ যে মেধা ও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না—শুভর সাফল্য যেন তারই উজ্জ্বল প্রমাণ। যেন প্রচলিত সেই কথাটিই সত্যি করে দেখালেন তিনি—‘গোবরে পদ্ম ফোটে।’

খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত জগন্নাথপুর গ্রামের সন্তান শুভ নিজের গ্রামের বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় নবম স্থান অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দেন তিনি।

আইন বিভাগে পড়ার শুরু থেকেই বিচারক কিংবা প্রশাসন ক্যাডারে যাওয়ার স্বপ্ন লালন করতেন শুভ। সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার কৌশল নিয়েও ছিলেন সচেতন। শেষ পর্যন্ত প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শুভ আহম্মেদ বলেন, ‘আইন বিভাগে ভর্তির পর থেকেই জজ বা অ্যাডমিন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। বাবার পরিশ্রম আর মায়ের স্বপ্ন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। আমি চাইতাম নিজের আলাদা একটা ভ্যালু তৈরি করতে। প্রস্তুতির সময় নিজেকে কখনো ফাঁকি দিইনি, বরং পড়াশোনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কৌশলী হওয়ার চেষ্টা করেছি।’
বিচারক হিসেবে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও নিজের প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন শুভ। তাঁর ভাষায়, ‘আদালত মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত জায়গা। মানুষ নিরুপায় হয়েই সেখানে যায়। আমি চেষ্টা করব আমার আইনি জ্ঞান ও বাধ্যবাধকতা মেনে মানবিকতার জায়গা থেকে মানুষকে ন্যায়বিচার দিতে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ২০০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তাদেরই একজন খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত গ্রামের শুভ আহম্মেদ।

তাঁর এই অর্জন শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি হাওরাঞ্চলের মাটিতে বেড়ে ওঠা এক তরুণের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের গল্প। যেখানে চারপাশে ছিল সীমাবদ্ধতা, সেখান থেকেই নিজের যোগ্যতায় পথ তৈরি করে বিচারকের আসনে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন শুভ।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : মাদকাসক্তি শুধু মানুষের জীবনকেই নয় বরং পুরো পরিবার-সমাজের ক্ষতি করে- ইউএনও আরিফুল ইসলাম