ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক পা হারিয়ে থমকে গেছে জীবন, তবু সন্তানের স্বপ্ন বাঁচাতে চায়ের দোকানে শ্যামল




 

নজরুল ইসলাম, পূর্বধলা | এসকেনিউজ২৪

একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে পুরো জীবন। যে পায়ে ভর করে সংসারের হাল ধরেছিলেন, সেই পা-ই আজ তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে মনে করিয়ে দেয় অসহায়ত্বের কথা। আট বছর ধরে ক্রাচে ভর করে চলছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার গ্রামের শ্যামল চন্দ্র দাস (৩৮)।

২০১৮ সালে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন শ্যামল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও আর আগের জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় প্রতিদিন ক্রাচে ভর করে বাড়ি থেকে কুমারখালী বাজারে আসেন তিনি। ছোট্ট একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। শরীরের যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বকে সঙ্গী করেই সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে চলে সংসার।

শ্যামলের সবচেয়ে বড় চিন্তা নিজের জীবন নয়—একমাত্র সন্তান অমিত চন্দ্র দাসের ভবিষ্যৎ।
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া অমিত মেধাবী। বাবার ইচ্ছে, ছেলে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু অভাবের কাছে সেই স্বপ্নও আজ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ আর পড়াশোনার ব্যয়—সবকিছু সামলাতে গিয়ে অমিতকেও কখনো কখনো বই-খাতা সরিয়ে বাবার চায়ের দোকানে বসতে হয়।

একদিকে অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ—দুই দুশ্চিন্তা নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই করছেন শ্যামল।

তার আকুতি, তিনি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। আর তার একমাত্র সন্তান যেন অভাবের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে—এই স্বপ্নটুকু পূরণ করতে চান।

শ্যামল চন্দ্র দাস সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক মানুষ ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

বিকাশ/নগদ: ০১৭০০৯৭৮৪৩৩
নাম: শ্যামল চন্দ্র দাস

হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাই শ্যামলের চিকিৎসার নতুন পথ খুলে দিতে পারে। হয়তো আপনার সহায়তায় অমিতকে আর বাবার চায়ের দোকানে বসে পড়াশোনার সময় নষ্ট করতে হবে না। একটি পরিবারের মুখে ফিরতে পারে স্বস্তির হাসি, একটি শিশুর স্বপ্ন পেতে পারে নতুন ঠিকানা।

এসকে/এনএন

আরো পড়ুন : বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ, মোহনগঞ্জে যুবক কারাগারে

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

সাংবাদিক আলিফ হত্যা : অপূর্বর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

এক পা হারিয়ে থমকে গেছে জীবন, তবু সন্তানের স্বপ্ন বাঁচাতে চায়ের দোকানে শ্যামল

প্রকাশের সময় : ০৭:১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নজরুল ইসলাম, পূর্বধলা | এসকেনিউজ২৪

একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে পুরো জীবন। যে পায়ে ভর করে সংসারের হাল ধরেছিলেন, সেই পা-ই আজ তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে মনে করিয়ে দেয় অসহায়ত্বের কথা। আট বছর ধরে ক্রাচে ভর করে চলছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার গ্রামের শ্যামল চন্দ্র দাস (৩৮)।

২০১৮ সালে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন শ্যামল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও আর আগের জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় প্রতিদিন ক্রাচে ভর করে বাড়ি থেকে কুমারখালী বাজারে আসেন তিনি। ছোট্ট একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। শরীরের যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বকে সঙ্গী করেই সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে চলে সংসার।

শ্যামলের সবচেয়ে বড় চিন্তা নিজের জীবন নয়—একমাত্র সন্তান অমিত চন্দ্র দাসের ভবিষ্যৎ।
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া অমিত মেধাবী। বাবার ইচ্ছে, ছেলে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু অভাবের কাছে সেই স্বপ্নও আজ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ আর পড়াশোনার ব্যয়—সবকিছু সামলাতে গিয়ে অমিতকেও কখনো কখনো বই-খাতা সরিয়ে বাবার চায়ের দোকানে বসতে হয়।

একদিকে অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ—দুই দুশ্চিন্তা নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার লড়াই করছেন শ্যামল।

তার আকুতি, তিনি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। আর তার একমাত্র সন্তান যেন অভাবের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে—এই স্বপ্নটুকু পূরণ করতে চান।

শ্যামল চন্দ্র দাস সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক মানুষ ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

বিকাশ/নগদ: ০১৭০০৯৭৮৪৩৩
নাম: শ্যামল চন্দ্র দাস

হয়তো আপনার সামান্য সহযোগিতাই শ্যামলের চিকিৎসার নতুন পথ খুলে দিতে পারে। হয়তো আপনার সহায়তায় অমিতকে আর বাবার চায়ের দোকানে বসে পড়াশোনার সময় নষ্ট করতে হবে না। একটি পরিবারের মুখে ফিরতে পারে স্বস্তির হাসি, একটি শিশুর স্বপ্ন পেতে পারে নতুন ঠিকানা।

এসকে/এনএন

আরো পড়ুন : বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ, মোহনগঞ্জে যুবক কারাগারে