ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়া-মদনের দুই গ্রামে চরম উত্তেজনা : দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি শত শত মানুষ




 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

পূর্ববিরোধের জেরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া ও সীমান্তবর্তী মদন উপজেলার দুই গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ সময় কেন্দুয়ার জালালপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের কেটে দেওয়া এবং পরে একটি হাঁসের খামারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী সাইডুলী নদীসংলগ্ন এলাকায় এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়ার জালালপুর ও মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাইডুলী নদীর দোবদুইল্লা ঘাট এলাকায় জালালপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হাওরের মাঝখানে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে মাঝখানে সাইডুলী নদী থাকায় তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে পারেনি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর মদনের বাঁশরি গ্রামের কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি জালালপুর গ্রামে প্রবেশ করে একটি হাঁসের খামারে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও পুরোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধ ছিল। এরই জেরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কেউ আহত বা আটক হয় নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একই বিরোধের জেরে কেন্দুয়ার জালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সাফায়াত (৩৫) গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে মদনের নায়েকপুর ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের আলী বকসের ছেলে সুমনের সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : যশোরে ভরণপোষণ না দেয়া ও হত্যার হুমকি, ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

 

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

কেন্দুয়া-মদনের দুই গ্রামে চরম উত্তেজনা : দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি শত শত মানুষ

প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

পূর্ববিরোধের জেরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া ও সীমান্তবর্তী মদন উপজেলার দুই গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ সময় কেন্দুয়ার জালালপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের কেটে দেওয়া এবং পরে একটি হাঁসের খামারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী সাইডুলী নদীসংলগ্ন এলাকায় এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়ার জালালপুর ও মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাইডুলী নদীর দোবদুইল্লা ঘাট এলাকায় জালালপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হাওরের মাঝখানে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে মাঝখানে সাইডুলী নদী থাকায় তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে পারেনি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর মদনের বাঁশরি গ্রামের কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি জালালপুর গ্রামে প্রবেশ করে একটি হাঁসের খামারে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত চলে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও পুরোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভবিষ্যতে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধ ছিল। এরই জেরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কেউ আহত বা আটক হয় নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একই বিরোধের জেরে কেন্দুয়ার জালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সাফায়াত (৩৫) গরুর জন্য ঘাস কাটতে গেলে মদনের নায়েকপুর ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের আলী বকসের ছেলে সুমনের সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : যশোরে ভরণপোষণ না দেয়া ও হত্যার হুমকি, ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা