ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, সামনে আরও ভয়ংকর উষ্ণতার শঙ্কা




 

নিউজ ডেস্ক | এসকেনিউজ২৪ 

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রার তীব্রতা। চলতি বছরের আগস্ট শুধু বছরের উষ্ণতম মাসই নয়, রেকর্ড অনুযায়ী এটি ইতিহাসের যৌথ উষ্ণতম মাস হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (C3S) জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এর বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১–২০২০ সালের গড়ের চেয়ে ০.৮৫ ডিগ্রি বেশি।

আগস্টের তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) গড়ের চেয়েও ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর ফলে আগস্ট ২০২৬ একই সঙ্গে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট এবং সব মাস মিলিয়ে যৌথভাবে উষ্ণতম মাসে পরিণত হয়েছে—জুলাই ২০২৩-এর সঙ্গে যৌথভাবে।

এদিকে বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রায় ২০২৬ বর্তমানে রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে অবস্থান করছে। কোপার্নিকাসের পূর্বাভাস বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো বছরের বাকি সময়ে আরও তীব্র হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। আগস্টে মেরু অঞ্চল বাদে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ওই মাসের জন্য সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত জুলাইকে বছরের উষ্ণতম মাস হিসেবে দেখা গেলেও এবার আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে। কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪০ সালের পর একই বছরে আগস্ট জুলাইয়ের চেয়ে উষ্ণ হয়েছে মাত্র কয়েকবার—২০২৬ সেই বিরল তালিকায় যুক্ত হলো।

আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সমুদ্র ও স্থলভাগের এই অতিরিক্ত উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এসব রেকর্ড কেবল তাপমাত্রার পরিসংখ্যান নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত। আগামী দিনগুলোতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

সূত্র : ডেইলি মেইল

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : ভাঙ্গায় গাছের চারা বিতরণ করল সাজেদা ফাউন্ডেশন

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, সামনে আরও ভয়ংকর উষ্ণতার শঙ্কা

প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিউজ ডেস্ক | এসকেনিউজ২৪ 

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রার তীব্রতা। চলতি বছরের আগস্ট শুধু বছরের উষ্ণতম মাসই নয়, রেকর্ড অনুযায়ী এটি ইতিহাসের যৌথ উষ্ণতম মাস হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (C3S) জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এর বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১–২০২০ সালের গড়ের চেয়ে ০.৮৫ ডিগ্রি বেশি।

আগস্টের তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের (১৮৫০–১৯০০) গড়ের চেয়েও ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর ফলে আগস্ট ২০২৬ একই সঙ্গে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট এবং সব মাস মিলিয়ে যৌথভাবে উষ্ণতম মাসে পরিণত হয়েছে—জুলাই ২০২৩-এর সঙ্গে যৌথভাবে।

এদিকে বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রায় ২০২৬ বর্তমানে রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে অবস্থান করছে। কোপার্নিকাসের পূর্বাভাস বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো বছরের বাকি সময়ে আরও তীব্র হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। আগস্টে মেরু অঞ্চল বাদে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ওই মাসের জন্য সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত জুলাইকে বছরের উষ্ণতম মাস হিসেবে দেখা গেলেও এবার আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে। কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪০ সালের পর একই বছরে আগস্ট জুলাইয়ের চেয়ে উষ্ণ হয়েছে মাত্র কয়েকবার—২০২৬ সেই বিরল তালিকায় যুক্ত হলো।

আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সমুদ্র ও স্থলভাগের এই অতিরিক্ত উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এরই মধ্যে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এসব রেকর্ড কেবল তাপমাত্রার পরিসংখ্যান নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত। আগামী দিনগুলোতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

সূত্র : ডেইলি মেইল

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : ভাঙ্গায় গাছের চারা বিতরণ করল সাজেদা ফাউন্ডেশন