ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরবেন তিনি

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন আগামীকাল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ফাইল ছবি




 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফর কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য— ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। বিশ্বনেতাদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশ, অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা এবং ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়নও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন তিনি।

সফরের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পেতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমান ভাষণ দিলে তিনি হবেন জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন। জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং খালেদা জিয়া প্রথমবার ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারের সফরে তাঁর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকছে।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : শার্শায় গোয়ালঘরে মিলল তিনটি ককটেল সদৃশ বস্তু : পরীক্ষার পর জানা যাবে বিস্ফোরক কি না

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

সাংবাদিক আলিফ হত্যা : অপূর্বর ফের ৪ দিনের রিমান্ড

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরবেন তিনি

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন আগামীকাল

প্রকাশের সময় : ০২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফর কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য— ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। বিশ্বনেতাদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশ, অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা এবং ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়নও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন তিনি।

সফরের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পেতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমান ভাষণ দিলে তিনি হবেন জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন। জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং খালেদা জিয়া প্রথমবার ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারের সফরে তাঁর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকছে।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : শার্শায় গোয়ালঘরে মিলল তিনটি ককটেল সদৃশ বস্তু : পরীক্ষার পর জানা যাবে বিস্ফোরক কি না