ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল মায়ের আকুতি, সন্তানের অপেক্ষায় ছিল অসংখ্য মানুষ—শেষ পর্যন্ত ফিরল নিথর দেহ; বিচারের দাবিতে সরব নেটদুনিয়া

নিখোঁজ অপ্রতিমের করুণ পরিণতি, শোক-ক্ষোভে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম




 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

‘আমার ছেলেকে খুঁজে দিন, বাঁচান আমার ছেলেকে’—সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর একজন মায়ের এমন আকুতি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পোস্টটি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই ছেলেটিকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক হৃদয়বিদারক খবরে। নিখোঁজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধানে মানুষের সহযোগিতা কামনা করে।

শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চিত্র পাল্টে যায়। যে ফেসবুকে কিছুক্ষণ আগেও ছেলেটিকে খুঁজে পাওয়ার আকুতি জানানো হচ্ছিল, সেখানেই এখন ভেসে উঠছে শোক, কান্না ও ক্ষোভের পোস্ট।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একটি ১৩ বছরের শিশু কীভাবে নিখোঁজ হলো, কী ঘটেছিল তার সঙ্গে এবং কীভাবে এমন নির্মম পরিণতি হলো?

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠেছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি।

ফেসবুকে স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে অপ্রতিমের ছবি—কোথাও মায়ের কান্না, কোথাও শোকবার্তা, আবার কোথাও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আকুতি।
অপ্রতিমকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু তার মৃত্যুর পেছনের সত্য যেন আড়ালে না থাকে—এটাই এখন পরিবার ও মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : তিতাসে নতুন কূপের যাত্রা : জাতীয় গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হলো আরেকটি দেশীয় উৎস

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল মায়ের আকুতি, সন্তানের অপেক্ষায় ছিল অসংখ্য মানুষ—শেষ পর্যন্ত ফিরল নিথর দেহ; বিচারের দাবিতে সরব নেটদুনিয়া

নিখোঁজ অপ্রতিমের করুণ পরিণতি, শোক-ক্ষোভে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

‘আমার ছেলেকে খুঁজে দিন, বাঁচান আমার ছেলেকে’—সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর একজন মায়ের এমন আকুতি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পোস্টটি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই ছেলেটিকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক হৃদয়বিদারক খবরে। নিখোঁজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধানে মানুষের সহযোগিতা কামনা করে।

শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চিত্র পাল্টে যায়। যে ফেসবুকে কিছুক্ষণ আগেও ছেলেটিকে খুঁজে পাওয়ার আকুতি জানানো হচ্ছিল, সেখানেই এখন ভেসে উঠছে শোক, কান্না ও ক্ষোভের পোস্ট।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একটি ১৩ বছরের শিশু কীভাবে নিখোঁজ হলো, কী ঘটেছিল তার সঙ্গে এবং কীভাবে এমন নির্মম পরিণতি হলো?

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠেছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি।

ফেসবুকে স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে অপ্রতিমের ছবি—কোথাও মায়ের কান্না, কোথাও শোকবার্তা, আবার কোথাও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আকুতি।
অপ্রতিমকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু তার মৃত্যুর পেছনের সত্য যেন আড়ালে না থাকে—এটাই এখন পরিবার ও মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : তিতাসে নতুন কূপের যাত্রা : জাতীয় গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হলো আরেকটি দেশীয় উৎস