
নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
‘সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই সংগঠনের উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। দৃষ্টান্তসহ তিনি তুলে ধরেন কীভাবে যুগে যুগে সাহিত্য সংগঠনই বহন করেছে সৃজনশীলতার মশাল। তবে তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে এক নিঃশব্দ উদ্বেগও—আজকের বাস্তবতায় এই মহৎ ঐতিহ্য কীভাবে কিছু “সাংস্কৃতিক মাফিয়া চক্রের” বা “কালচারাল টাউটদের” কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে। তারা প্রকৃত সৃজনশীলতাকে ঠেলে দিচ্ছে প্রান্তে। এই সংশয় নিছক অভিযোগ নয়। এ যেন সাহিত্য সমাজের প্রতি এক আন্তরিক আত্মজিজ্ঞাসার আহ্বান।’ এমন মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সহসভাপতি সূফীকবি এনামূল হক পলাশ। ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বীক্ষণ’র সাপ্তাহিক পাঠচক্রের ২২১৯তম আসরে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন উদ্যান এলাকায় অবস্থিত ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ আঙিনায় “সাহিত্যের সংগঠন, সংগঠনের সাহিত্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়। কবি-সাহিত্যিকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও গভীর আলোচনা-সমালোচনায় আসরটি হয়ে ওঠে চিন্তাউদ্দীপক ও বহুমাত্রিক।
ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি মোস্তফা তারেকের সভাপতিত্বে এবং কবি মুহাম্মদ মুস্তাকিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সহসভাপতি কবি এনামূল হক পলাশ এবং মুক্তাগাছা সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি সুরঞ্জিত বাড়ই।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাহিত্য ও সংগঠনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ব্যক্তির সৃজনশীলতা যেমন সাহিত্যের প্রাণ, তেমনি সংগঠিত উদ্যোগ সেই সৃষ্টিকে বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ফলে সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্য সংগঠন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাহিত্য ও সংগঠনের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই; বরং রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সহযাত্রা। সাহিত্য সমাজের আত্মার ভাষা আর সংগঠন সেই ভাষাকে একটি কাঠামো ও সম্মিলিত স্বর দেয়। একজন কবি বা লেখকের সৃষ্টিশীলতা সংগঠনের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়।

মুক্তাগাছা সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি সুরঞ্জিত বাড়ই তাঁর বক্তব্যে সাহিত্যিকদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা, পদ-পদবি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি সৃষ্টির নিজস্ব শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নিভৃতে সাহিত্যচর্চা করে যাওয়া অনেক প্রকৃত লেখকের আর্থিক সংকট ও অবহেলার বিষয়টিও।
আলোচনায় আরও অংশ নেন কথাসাহিত্যিক সাখাওয়াত বকুল, কবি সরকার আজিজ, কবি এহসান হাবীবসহ আরও কয়েকজন কবি-সাহিত্যিক। তাঁদের বক্তব্য ও মতামতে সাহিত্য সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা, সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন এবং বর্তমান সাহিত্যচর্চার নানা দিক উঠে আসে।
আলোচনার মধ্য দিয়ে বক্তারা সাহিত্য সংগঠনকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন লেখক ও সৃষ্টিশীল প্রতিভা বিকাশের কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষ পর্বে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি মোস্তফা তারেক আমন্ত্রিত অতিথি, আলোচক ও উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানান। পরে তিনি বীক্ষণ সাপ্তাহিক পাঠচক্রের ২২১৯তম আসরের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এসকে/এনপি
আরো পড়ুন : ‘গ্রামীণ জীবনের সেকাল-একাল’ নিয়ে কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসর
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















