
নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
আমিষের চাহিদা পূরণ ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান উৎস নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার জালিয়া হাওর। সম্প্রতি এই হাওরের একটি বেড়িবাঁধ কেটে পানি বের করে দেওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মামুদ আলীর ছেলে ছদ্দু মিয়া (৫৭)-কে প্রধান আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আলী আহম্মদ খান। অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের পূর্ব সীমান্তের জালিয়া হাওরের কালারিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে আলী আহম্মদ খান বলেন, মামুদপুর গ্রামের জালিয়া হাওরের কালারিয়া অংশের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তাঁর স্বত্ব-দখলীয় নিচু জমিতে প্রতি বোরো মৌসুমে ধান চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল ও মাছ রক্ষায় সেখানে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে অভিযুক্তরা ১৫ থেকে ২০টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হাওরে প্রবেশ করেন। পরে তারা কোদাল দিয়ে বেড়িবাঁধ ও বরনী নদীর পাড় কেটে দেন। এতে হাওরে জমে থাকা পানি বরনী নদীতে প্রবাহিত হতে থাকে। পানির স্রোতে রুই, কাতল, মৃগেল, গাসকার্প, সরপুঁটি, বোয়াল, শোল, শিং, মাগুর ও কৈসহ বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করা মাছ ভেসে যায়। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
একই সময় অভিযুক্তরা চায়না জাল ও জিমজাল দিয়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের প্রাণনাশ এবং হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন আলী আহম্মদ খান।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মদন থানার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে । স্থানীয় নেতৃবৃন্দও অবগত রয়েছেন । যাতে কোন রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সকলেই সতর্ক রয়েছি ।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ : এনসিপির পদ হারালেন সাদিয়া
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















