ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি বিরোধে ৫ বোনকে মারধর : কেন্দুয়ায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ




 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জমির মালিকানা ও লিজের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পাঁচ বোনকে মারধর এবং তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের দুটি চেইন ও এক জোড়া কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের ভগবতীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃত সুরুজ আলীর পাঁচ মেয়ে রোকেয়া, হারুনা, ঝর্ণা, সীমা ও লিপা এবং ছেলে রাসেল একসঙ্গে অবস্থান করছেন। এ সময় পাঁচ বোনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় । তবে রোকেয়া ও হারুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরুজ আলীর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানদের সঙ্গে চাচা নাজিম উদ্দীনের ছেলে মামুন মিয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ প্রায় ৩৭ শতাংশ জমি বি.আর.এস. রেকর্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় ঢাকা ব্রিকসকে লিজ দেওয়া হয়েছে ।

সুরুজ আলীর সন্তানদের দাবি, জমিটির দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। গত বছরও তারা লিজের টাকা গ্রহণ করেছেন। বুধবার লিজের টাকা নিতে গেলে মামুন মিয়া, মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল, মৃত উমেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে ফডো মিয়া, তাঁর ভাই বাচ্চু মিয়া, মাহমুদ আলীর ছেলে মোশাররফ, আলী আকবরের ছেলে সুমনসহ আরও কয়েকজন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় তাদের গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া কানের দুল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয় ।

আহত রোকেয়া বলেন, আমাদের বাবার প্রায় ৩৭ শতাংশ সম্পত্তি লিজ নিয়ে ঢাকা ব্রিকস ব্যবহার করছে। আমরা লিজের টাকা নিতে গেলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে জমি ব্যবহারে বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভুল বি.আর.এস. রেকর্ডের কারণে জমির স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে স্বত্ব ঘোষণার জন্য বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালত, কেন্দুয়ায় মামলা করা হয়েছে।

তবে মারধর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুন মিয়া। তিনি বলেন, আমরা কেউ তাদের মারধর করি নি। তারা রাস্তায় এসে যা ইচ্ছা তাই করতে থাকলে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে কিছুটা হাতাহাতি হয়। আমাদের পক্ষের কয়েকজন মহিলাও আহত হয়েছেন। চেইন ও কানের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ঢাকা ব্রিকসের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দরবার-সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে লিজের টাকা দেওয়া হবে না। মামলা নিষ্পত্তির পর যার পক্ষে সিদ্ধান্ত যাবে, তাকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। মূল বিরোধ মামুন ও সুরুজ আলীর সন্তানদের মধ্যে; ঢাকা ব্রিকসের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই।

আশুজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল বলেন, মারধরের বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। তারা জানান, সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই বিরোধপূর্ণ জমিতে যেতে পারবে না। মামলা যার পক্ষে যাবে, লিজের টাকা সেই পক্ষ পাবে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : এক ছবিতে ৮৭ জাল এনআইডি! নেত্রকোনায় যুবক গ্রেফতার

One thought on “জমি বিরোধে ৫ বোনকে মারধর : কেন্দুয়ায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

জমি বিরোধে ৫ বোনকে মারধর : কেন্দুয়ায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জমির মালিকানা ও লিজের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পাঁচ বোনকে মারধর এবং তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের দুটি চেইন ও এক জোড়া কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের ভগবতীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃত সুরুজ আলীর পাঁচ মেয়ে রোকেয়া, হারুনা, ঝর্ণা, সীমা ও লিপা এবং ছেলে রাসেল একসঙ্গে অবস্থান করছেন। এ সময় পাঁচ বোনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় । তবে রোকেয়া ও হারুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরুজ আলীর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানদের সঙ্গে চাচা নাজিম উদ্দীনের ছেলে মামুন মিয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ প্রায় ৩৭ শতাংশ জমি বি.আর.এস. রেকর্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় ঢাকা ব্রিকসকে লিজ দেওয়া হয়েছে ।

সুরুজ আলীর সন্তানদের দাবি, জমিটির দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। গত বছরও তারা লিজের টাকা গ্রহণ করেছেন। বুধবার লিজের টাকা নিতে গেলে মামুন মিয়া, মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল, মৃত উমেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে ফডো মিয়া, তাঁর ভাই বাচ্চু মিয়া, মাহমুদ আলীর ছেলে মোশাররফ, আলী আকবরের ছেলে সুমনসহ আরও কয়েকজন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় তাদের গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া কানের দুল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয় ।

আহত রোকেয়া বলেন, আমাদের বাবার প্রায় ৩৭ শতাংশ সম্পত্তি লিজ নিয়ে ঢাকা ব্রিকস ব্যবহার করছে। আমরা লিজের টাকা নিতে গেলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে জমি ব্যবহারে বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভুল বি.আর.এস. রেকর্ডের কারণে জমির স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে স্বত্ব ঘোষণার জন্য বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালত, কেন্দুয়ায় মামলা করা হয়েছে।

তবে মারধর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুন মিয়া। তিনি বলেন, আমরা কেউ তাদের মারধর করি নি। তারা রাস্তায় এসে যা ইচ্ছা তাই করতে থাকলে এলাকার মহিলাদের সঙ্গে কিছুটা হাতাহাতি হয়। আমাদের পক্ষের কয়েকজন মহিলাও আহত হয়েছেন। চেইন ও কানের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ঢাকা ব্রিকসের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দরবার-সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে লিজের টাকা দেওয়া হবে না। মামলা নিষ্পত্তির পর যার পক্ষে সিদ্ধান্ত যাবে, তাকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। মূল বিরোধ মামুন ও সুরুজ আলীর সন্তানদের মধ্যে; ঢাকা ব্রিকসের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই।

আশুজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল বলেন, মারধরের বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক। তারা জানান, সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছিল—মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই বিরোধপূর্ণ জমিতে যেতে পারবে না। মামলা যার পক্ষে যাবে, লিজের টাকা সেই পক্ষ পাবে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : এক ছবিতে ৮৭ জাল এনআইডি! নেত্রকোনায় যুবক গ্রেফতার