কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিস বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। সালিসের পর ভুক্তভোগী কিশোরী, তার মা ও নানা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের কাঁঠাহুসিয়া গ্রামের দক্ষিণ ও উত্তর পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী,ছদ্মনাম-‘লাবনী’র স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর বয়স থেকে নানার বাড়িতে বেড়ে ওঠা লাবনী স্থানীয় একটি আলিয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৪ সেপ্টেম্বর সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এর আগেও তাকে একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
পরিবারের ধারণা ছিল, ধর্ষণের ফলে লাবনী গর্ভবতী হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ঘটনার কয়েকদিন পর স্থানীয় মাতব্বরদের উদ্যোগে গ্রাম্য সালিস বসে। তবে সেখানে গর্ভধারণের বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হয় বলে সালিসে জানানো হয় । এরপরই বাধে বিপত্তি । সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাবনী, তার মা ও নানাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার দাই বাড়িতে প্রায় ১৬ থেকে ২০টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে একটি পরিবার লাবনীর নানার ঘরটি তালাবদ্ধ । ছোটবেলা থেকেই নানার এই ঘর বা বাড়িতেই বেড়ে ওঠা কিশোরীটির জীবনে এমন ঘটনা নেমে আসায় স্থানীয় অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেন।
লাবনীর নানী ও আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস হয়েছে। তবে সালিসের সিদ্ধান্ত ও সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
এদিকে একই গ্রামের উত্তর পাড়ার মৃত শাজাহান মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত হীরামন (২৫)-এর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে গ্রাম্য সালিসে আর্থিক লেনদেনের আলোচনা হয়েছে এবং তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে এ অর্থ আদৌ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হয় নি । তবে কার পক্ষ থেকে কাকে দেওয়া হয়েছে-এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো দলিল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায় নি।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গরিব পরিবারের হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের পরিবার অভিযোগটিকে পরিকল্পিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া মুঠোফোনে বলেন, গর্ভবতী বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সালিশে বলা হয় এখন তোমরা কী করবা? তখন তারা (লাবনীর পরিবার) নিজেরাই বাড়ি থেকে চলে যায়। আমরা তাড়িয়ে দিই নি। তিনি আরো বলেন, শুনেছি আজ (৮ অক্টোবর) নাকি কোর্টে মামলা হয়েছে৷
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানা নেই । লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে৷
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত জনসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে ঈশ্বরগঞ্জে ডিসির পরিদর্শন
SK NEWS 24 BD সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.