কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় মারধরের চেষ্টা, ভরণপোষণ না দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে ছোট ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বড়তলা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আবেদা আক্তার (৭৫)। তিনি মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবেদা আক্তার জানান, তার ছোট ছেলে মশিউর রহমান নয়ন (৪৫) তাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না। ভরণপোষণ চাইলে তাকে মারধর করতে আসেন, বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করেন এবং বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আবেদা আক্তারের অভিযোগ, বসতবাড়ির সামনে থাকা দুটি রেন্টি গাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা, তার ছেলে বিক্রি করে দেন। গত ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে গাছ বিক্রিতে বাধা দিতে গেলে নয়ন লাঠি-শোঠা নিয়ে তাকে মারধরের জন্য এগিয়ে আসেন। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এ সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, খুন-জখমের হুমকি এবং বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া জমি বিক্রির ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অগোচরে নিয়ে যাওয়া এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করার অভিযোগও করেন আবেদা আক্তার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে নিয়মিত নেশা করেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই এমন কর্মকাণ্ড করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেদা আক্তারের ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (ফকির) ও তিন মেয়ে লাকী আক্তার, লাভলী আক্তার ও সানজেনা আক্তার অভিযোগ করেন, তাদের মায়ের করা অভিযোগের কারণে নয়নের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন তাদের হুমকি দিচ্ছেন। তারা হলেন একই এলাকার—মৃত আব্দুল শাহেদের ছেলে সবুজ (৫৫), মৃত গোমেজ আলীর ছেলে কলিম উদ্দিন এবং মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আশরাফ উদ্দিন (৫৫)।
সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা মা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত মশিউর রহমান নয়ন ও অভিযোগে উল্লেখিত অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানাধীন পেমই তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ বাবুল মিঞা বলেন, নয়ন মিয়ার বিরুদ্ধে তার মা অভিযোগ দাখিল করেছেন। বর্তমানে নয়ন মিয়া একটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। আমরা আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেশ করেছি।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের রোপণ করা ধানের চারা নষ্টের অভিযোগ
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.