মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ১৬ বছর বয়সী রোজা আক্তার কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিশু ও নারী নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ধর্ষিতা ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযোগ দাখিল করার পর আবু মিয়া (৫০) নামে ২নং আসামিকে রাতে সাউদপাড়া নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্য আসামীরা হলেন,
১। বকুল মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত নায়েব আলী, ২। মোঃ আবু (৫০), পিতা- মৃত ছনু মিয়া, ৩। মোছাঃ লিমা (২১), পিতা- মোঃ বকুল মিয়া, মাতা- মোছাঃ জাহানারা বেগম, ৪। মোছাঃ জাহানারা বেগম (৪৮), স্বামী- মোঃ বকুল মিয়া, সর্ব সাং- সাউদপাড়া, ৫। মোছাঃ স্মৃতি (৩২), স্বামী- জনি, সাং- টেঙ্গুরী, সর্বথানা- কেন্দুয়া, জেলা- নেত্রকোণাসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন।
মামলার বিবরণে ভূক্তভোগীর পিতা উল্লেখ করেন,-
আমি একজন কৃষক, আমার ০৪ ছেলে ও ০১ মেয়ে। আমার মেয়ে ০১ নং সাক্ষী ভিকটিম কেন্দুয়া থানাধীন সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বর্তমানে আমার মেয়ে ০৬ মাসের গর্ভবতী।
আমার মেয়ে ভিকটিম ষষ্ঠ শ্রেণি হইতে সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করিয়া আসিতেছে। ০১ নং আসামী আমার নিকট আত্মীয় হয়। আমার মেয়ে বাড়ী থেকে সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ০১ হইতে ০৪ নং আসামীদের বাড়ীর সামনে দিয়া যাওয়া আসা করিত। পথিমধ্যে ০১ । হইতে ০৪ নং আসামীদের বসত বাড়ী হওয়ায় স্কুলে যাওয়া আসার পথে ০১ নং আসামীসহ ০২, ০৩ ও ০৪ নং আসামীদের সাথে মাঝে মধ্যে দেখা হইত। গত ২০/১১/২০২২ খ্রিঃ দুপুর অনুমান ০১:৩০ ঘটিকার সময় আমার মেয়ে স্কুল হইতে বাড়ী ফেরার পথে ০১ নং আসামীর বাড়ীর সামনে পৌছিলে ০১ নং আসামী আমার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমার মেয়ের পায়ের আঙ্গুলের ঘাঁ ভালো হইয়াছে কিনা। তখন আমার মেয়ে জানান যে, তার পায়ের ঘাঁ এখনো ভালো হয় নাই। ঐ সময় ০১ নং আসামী বকুল মিয়া আমার মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঐ দিন দুপুর অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় সাউদপাড়াস্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস রোডে অজ্ঞাতনামা ০১ বাসায় নিয়া বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং আমার মেয়ের অজান্তে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ০১ নং আসামী বকুল মিয়া উক্ত ভিডিও বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ করার ভয় দেখাইয়া আমার মেয়েকে ১ম ঘটনার তারিখ হইতে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ০১ নং আসামী বকুল মিয়া ০৩ ও ০৪ নং আসামীর সহায়তায় তার বসত ঘরে নিয়া মেয়ের মুখে স্প্রে মারিয়া অজ্ঞান করিয়া আমার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং সর্বশেষ ২৫/০৬/২০২৬ খ্রিঃ দুপুর অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় তার বসত ঘরে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আমার মেয়েকে ০১ নং আসামী বকুল মিয়া ট্যাবলেট জাতীয় ঔষধ জোরপূর্বক খাওয়ানোর চেষ্টা করত।
তদন্ত কর্মকর্তা সজল দাস জানিয়েছেন- ২নং আসামি আবু মিয়া আটকের পর থানায় মামলা রুজু হয়। আবু মিয়া (৫০)কে আজ নেত্রকোনা জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, সকল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এসকে/এনএস
আরো পড়ুন : চন্দ্রগঞ্জের হাজিরপাড়ায় মাদকবিরোধী পথসভা ও র্যালি
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.