নিউজ ডেস্ক ||এসকেনিউজ২৪
সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা ঘিরে অভিযান চালিয়ে ১৪টি পাইপ বোমা, বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনটি ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি ও পুলিশ। রাত পর্যন্ত ভবনটির আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ একজনকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই ভবনে অভিযান চালানো হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, আটক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আরও নয়টি একই ধরনের পাইপ বোমা এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কিছু লিফলেটও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা সামগ্রীকে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেন। এতে ঘটনাস্থলের আশপাশে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবন থেকে উদ্ধার করা পাইপ বোমার মূল উপাদান হিসেবে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভবনটির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামের এক ব্যক্তি আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সন্তানদের পাশের স্কুলে ভর্তি করার কথা বলেছিলেন। নিজেদের গাড়িচালক বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁরা। পরিবারের লোকজন ভেবে তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
ইলমার ভাষ্য, ভাড়াটিয়ারা বাসার ভেতরে এ ধরনের বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম জমা করে রেখেছিলেন—এ বিষয়ে বাড়ির মালিকপক্ষ কিছুই জানত না।
অভিযানে সিটিটিসির পাশাপাশি স্থানীয় থানা পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও সরঞ্জামের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : শার্শার স্কুল মাদ্রাসার ফলাফল হতাশাজনক : ৩টিতে শতভাগ ফেল, শতভাগ পাশও নেই কোন প্রতিষ্ঠান
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.