নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে জব্দ করা চারটি অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং জাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে পুলিশের অভিযানে ছিনতাই হওয়া জালগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে জব্দ করা জালগুলো তদন্ত কেন্দ্রসংলগ্ন ভূমি অফিসে সংরক্ষণ করা হয়।
পরদিন ১২ জুলাই দুপুরে ৪০ থেকে ৫০টি নৌকাযোগে কয়েকশ মানুষ সেখানে এসে জোরপূর্বক জালগুলো নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জালগুলো জব্দ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, পুটিউগা গ্রামের শামসুদ্দিন তালুকদারের ছেলে জুয়েলের নেতৃত্বে জাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং সরকারি কাজে বাধা ও মৎস্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সোমবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছিনতাই হওয়া চারটি জালের মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি জাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখিত জুয়েল। তিনি বলেন, জাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হাওরের জেলেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতেই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এই জাল সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এ বিষয়ে তাদের ধারণা ছিল না।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানান, ডিঙ্গাপোতা হাওরে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মাছ ধরা থেকে তারা বিরত ছিলেন। তাদের দাবি, বছরের এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকার নজির আগে ছিল না। ঋণ নিয়ে জাল কিনে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা বর্তমান মৌসুমে মাছ ধরতে না পারায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তবে আদর্শ নগরে সংঘটিত জাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তারা দাবি করেন।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : কলমাকান্দায় টানাবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উব্দাখালী নদীর পানি বাড়ছে : বন্যার আশঙ্কা
সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.