মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় উপজেলার ১৪নং মোজাফফর পুর ইউনিয়নে স্বামীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অনশন করছেন তাড়াইলের হাসি।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- ১৪ নং মোজাফফর পুর ইউনিয়নের মোজাফফর পুর গ্রামের মিল্টন মিয়ার চার দেয়ালের বাড়ির ভেতরে বসে স্বামীর অধিকার আদায়ের কথা বলে কাঁদছে।
অনশনে বসা হাসির সাথে কথা বলে জানা যায়- মোজাফফর পুর গ্রামের মিল্টন মিয়ার একমাত্র ছেলে নাহিদ হাসানের সাথে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গত ১৬ জুন কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে ৮ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। উল্লেখিত কোর্ট ম্যারিজে লেখা আছে ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা উসল করা হয়েছে। বাকি তলব রাখা হয় ৬ লক্ষ টাকা।
বিয়ের পর থেকে হাসির বাবা কাইয়ুম মিয়া তাঁকে বাড়িতে জায়গা দিচ্ছে না। ১৬ জুন থেকে তাড়াইলের পারুল মেম্বার এর বাড়িতেই অবস্থান করছিল হাসির দম্পতি। এর পর কয়েকজন ব্যাক্তি নাহিদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসলেও নাহিদের জায়গা হয়নি তার বাবার ভিটে।
জানা যায়- কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল সদর উপজেলার সাতঢং গ্রামের কাইয়ুম মিয়া মেয়ে হাসি। এর আগে গত ৩ জুন হাসির পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় একই উপজেলার সাওবাগ সিন্নি গ্রামের তপু'র সাথে। তপু গার্মেন্টসে চাকরি করে বিদায় তাঁকেও মেনে নিতে পারেননি হাসি।
তপুর সাথে বিয়ের বিষয় জানতে চাইলে বলেন- তপুর নামে কাউকে চিনি না। কারও সাথে আমার বিয়ে হয় নাই। আমি বিয়ে করেছি নাহিদকে।
নাহিদের মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়- নাহিদের ১৬ বছর বয়সে ৮ শ্রেনীতে পড়ে। আর এই মেয়ে ডিগ্রিতে পড়ে শুনেছি। আমার ছেলের চেয়ে কয়েক বছরের বড় হবে হাসি নামের এই মেয়েটি। সে আমার ছেলেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করলেও আমরা তা কখনো মেনে নিতে পারি না।
হাসি মোজাফফরপুর অনশনে বসার পর তাকে বুঝিয়ে বলতে, তাদের ইজ্জত ধুলোয় না মেশাতে গ্রামের লোকজন অনেক চেষ্টা করেছেন। হাসিও বারবার কেঁদে কেঁদে বলছেন- আপনারা কেউ এই বাড়িতে আসবেন না। আমি মরলে আমি মরি। তবুও আপনারা আমার শশুরবাড়ীতে এসে তাদের মান সন্মান নষ্ট করবেন না।
এবং তাড়াইল বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিটন এবং সাকীর সাথে যোগাযোগ করলে কোন ফলপ্রসু হয়নি বলে জানা যায়। হাসির পরিবারের সদস্যরা লিটনদের বাড়িতে থাকেও বলে জানা যায়।
এদিকে হাসির শশুর মিল্টন মিয়া পারিবারিক কাজে দৌড়যাপে থেকে মেয়ের সামনে আসতে পারছেন না। তিনি মোঠোফোনে বলেন- আমার ছেলে যদি বিয়ে করে তার বউকে নিয়ে বাড়িয়ে আসে তাহলে আমার তাদের আটকানো কিছু নেই।
বউ নিয়ে খাবে সে। তার ভালো লাগলে আমার ভালো। শুনেছি হাসি বৃহস্পতিবার দুপুরে আসছে, আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আছে নাহিদ এর বাড়ির বাহিরে। রাতেও এখানে ছিল।
মোজাফফর পুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়- নাহিদ আমার সম্পর্কের নাতী হয়, সে এই বয়সে বিয়ে করেছে আমি কল্পনা করতে পারছি না। হাসির সাথে কথা ও তার কোর্টের কাগজ পত্র দেখে বিশ্বাস হয়েছে। আমি চেষ্টা করছিলাম তাদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টা শেষ করবো,কিন্তু মেয়ে কথা শুনে না।
এদিকে হাসির পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়- তিনি বলেন ঘটনা শুনেছি, তবে কেউ অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তাদের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করবো, আর তাছাড়া এটা ছেলে মেয়ের বিয়ের বিষয় এটা আমাদের কি করার আছে।
এসকে/এনএস
আরো পড়ুন : কেন্দুয়াতে লোকজ সংস্কৃতির গায়ক জসিম শাহ্ পালা ও গান গেয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে
SK NEWS 24 BD সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন মাসুদসহ-সম্পাদক : নূরুল আমীন। অস্থায়ী কার্যালয়: ১৬৪, খতিবনগুয়া, হাসপাতাল রোড, নেত্রকোনা-২৪০০।
Copyright © 2026 SKNEWS24BD. All rights reserved.